রবিবার ০৯ মে, ২০২১

করোনায় মৃত্যুর খবরে আসেননি স্বজনরা, দাফনে নাসিক

শনিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২১, ২০:২৮

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: মৃত্যু সংবাদ পেয়েও হাসপাতালে আসেননি স্বজনরা। কয়েক ঘন্টা হাসপাতালেই পড়ে ছিল কোভিড-১৯ পজেটিভ হয়ে মৃত্যুবরণ করা নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার সৈয়দপুর এলাকার বাসিন্দা বাবুলের (৫০) মরদেহ। শনিবার (১৭ এপ্রিল) দুপুরে কোভিড ডেডিকেটেড নারায়ণগঞ্জ ৩শ’ শয্যা হাসপাতালে এই ঘটনা ঘটে। পরে খবর পেয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের দাফনকার্যে নিয়োজিত টিম মরদেহের দাফন করেন। এই কার্যক্রমে সহযোগিতা করেছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র-১ আফসানা আফরোজ বিভা হাসান ও কাউন্সিলর শওকত হাশেম শকু।

নাসিকের ১২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর শওকত হাশেম শকু জানান, তিনদিন আগে বাবুল নামে ওই ব্যক্তিকে কোভিড ডেডিকেটেড নারায়ণগঞ্জ ৩শ’ শয্যা হাসপাতালের আইসোলেশনে ভর্তি করা হয়। সকালে তিনি মারা গেলে তার স্বজনদের সাথে যোগাযোগ করে কাউকে না পেয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কাউন্সিলরের সাথে যোগাযোগ করেন। পরে সিটি কর্পোরেশনের দাফনকার্যে নিয়োজিত টিমের সাথে যোগাযোগ করে লাশ দাফনের ব্যবস্থা করা হয়।

এদিকে নাসিকের প্যানেল মেয়র-১ আফসানা আফরোজ বিভা হাসান জানান, ওই ব্যক্তির নাম বাবুল (৫০)। তিনি সদর উপজেলার সৈয়দপুর কড়ইতলা এলাকার বাসিন্দা। তিনি কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করান ওই এলাকার ইউপি সদস্য সৈকত হোসেন। সকালে তিনি মারা গেলে স্বজনরা কেউ না আসায় সিটি কর্পোরেশনের লোকজনের মাধ্যমে পাইকপাড়া বড় কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন করা হয়।

এদিকে সদর উপজেলার গোগনগর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সৈকত হোসেন বলেন, বাবুল নামে ওই ব্যক্তি সৈয়দপুরের কড়ইতলায় দীর্ঘ ছয় বছর যাবৎ একা থাকতেন। ওই এলাকার একটি দরজির দোকানে কাজ করতেন এবং সেখানেই থাকতেন। কয়েকদিন আগে তার ডায়রিয়া হলে তাকে মহাখালী হাসপাতালে ভর্তি করাই। পরে মহাখালী হাসপাতালে কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হলে তাকে গত বৃহস্পতিবার নারায়ণগঞ্জ ৩শ’ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করাই। শুক্রবারও তাকে গিয়ে দেখে আসছি। আজকে তিনি যে মারা গেছেন তা আমাকে জানানো হয়নি। আমি এক সাংবাদিকের মাধ্যমে এই কথা জানতে পারি। তার থেকে জানার পর হাসপাতাল থেকে ফোন দিয়ে লাশ সিটি কর্পোরেশনের লোকজনের কাছে হস্তান্তরের বিষয়ে জানানো হয়।

ইউপি সদস্য সৈকত হোসেন বলেন, তার সাথে তার পরিবারের যোগাযোগ তেমন নেই। তার মূল বাড়ি চাঁদপুরে। এক মেয়ে থাকেন কুমিল্লায়। ওই মেয়েকে তার বাবার মৃত্যুর খবর জানানোর পর লকডাউনের কারণে আসতে পারেননি। এখানেই দাফনের কথা জানালে তাদের কোনো আপত্তি নেই বলে জানিয়েছেন।

সব খবর
নগর বিভাগের সর্বশেষ