শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২০

করোনা মোকাবেলায় সফল বন্দরের ইউএনও শুক্লা সরকার

শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২০, ১৯:৪৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: দেশে করোনা প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকেই আলোচনায় ছিল নারায়ণগঞ্জ৷ দেশের প্রথম রোগী শনাক্ত হওয়ার পর করোনা ক্লাস্টার, হটস্পট, এপিসেন্টারসহ নানাভাবে চিহ্নিত করা হয় জেলাটিকে৷ করোনাকালের এই দীর্ঘ সময়ে সময়োপযোগী নানা সিদ্ধান্ত ও উদ্যোগ নিয়ে সফলতা পেয়েছেন নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শুক্লা সরকার৷ করোনা সংক্রমনের দিক থেকে এখনও ভালো অবস্থানে আছে বন্দর উপজেলা৷ পুরো জেলায় যখন করোনা শনাক্ত রোগী সাড়ে ৫ হাজার ছাড়িয়েছে সেখানে বন্দর উপজেলাজুড়ে কোভিড পজেটিভ শনাক্ত হয়েছেন ২০৭ জন৷ তাদের মধ্যে ১৪৯ জন ইতিমধ্যে সুস্থ হয়েছেন৷ এই উপজেলায় করোনায় এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ৩ জন৷ যা জেলার পুরো পরিসংখ্যানের তুলনায় অনেক কম৷

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সর্বশেষ তথ্যমতে, নারায়ণগঞ্জে সিটি কর্পোরেশন ও ৫ উপজেলায় আক্রান্ত ৫ হাজার ৫০২ জন। মারা গেছেন ১২০ জন৷ পুরো জেলায় সবচেয়ে বেশি রোগী রয়েছে সিটি এলাকায় এবং সদর উপজেলায়৷ সবচেয়ে কম রোগী বন্দর উপজেলায়৷ এই সাফল্যের নেপথ্যে কাজ করেছে উপজেলা প্রশাসন তথা ইউএনও শুক্লা সরকারের কর্মদক্ষতা ও সময়োপযোগী মানবিক সিদ্ধান্ত৷

উপজেলায় সংক্রমন ঠেকাতে শুরু থেকেই নানা উদ্যোগ নিয়েছেন বন্দর ইউএনও শুক্লা সরকার৷ গত ৮ মার্চ জেলায় প্রথম রোগী শনাক্ত হলে জেলা প্রশাসনের নির্দেশে বিদেশ ফেরতদের চিহ্নিত করে কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করেন। সকাল থেকে রাত অবধি এই কাজে ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়। কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থানও নিতে হয়েছে তাকে৷ কোয়ারেন্টিনে না থেকে ঘুরে বেড়ানোর অভিযোগ পেয়ে একাধিক অভিযান চালিয়ে জরিমানাও করেন। প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের সংক্রমন ঠেকাতে চলে অক্লান্ত পরিশ্রম। জেলায় যখন করোনার সংক্রমন গেলে লকডাউন কার্যকরে বাজার, মার্কেট, দোকান বন্ধে সজাগ ছিলেন। বন্দরের সাথে অন্যান্য উপজেলার যোগাযোগ পথে প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপে তদারকি করেন।

গত ৩০ এপ্রিল করোনা আক্রান্ত হয়ে সিটি কর্পোরেশনের কদমরসূল অঞ্চলের রসূলবাগ এলাকার এক নারী মারা যান। দুই দিন আগে মৃত্যুবরণ করলেও ২ এপ্রিল রাতে বিষয়টি নিশ্চিত হবার পরপরই ছুটে যান সেই এলাকায়। আক্রান্ত পরিবারের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে এলাকা লকডাউন করেন। লকডাউন এলাকায় পুলিশি পাহাড়ার পাশাপাশি খাবার ওষুধসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য পৌঁছানের ব্যবস্থা করেন৷

করোনাকালে বন্দরের নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়েছে। লকডাউন চলাকালীন সরকারি-বেসরকারি ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম চালান ইউএনও শুক্লা সরকার৷ তিনি জানান, এখন পর্যন্ত ৩০ হাজারের অধিক পরিবার ত্রাণ কার্যক্রমের সুবিধাভোগী হয়েছেন৷ করোনাকালে সম্ভাব্য দুর্ভিক্ষ এড়াতে উপজেলার পতিত জমি, খালি জমিতে কৃষিকাজে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করেন ইউএনও। উপজেলা কৃষি অফিসের মাধ্যমে বাছাই করা ৬০ কৃষককে সবজি, বীজ, সার বিতরণ করেছেন, দিয়েছেন আর্থিক সহযোগিতাও৷

মৃত্যুঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও মাঠপর্যায়ে কাজ করেছেন এই সরকারি কর্মকর্তা৷ এক পর্যায়ে খবর আসে ঢাকায় নিজ কর্মস্থলে তার স্বামী গোলাম সাকলায়েন (ডিএমপির গোয়েন্দা উত্তর বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার) করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন৷ এরপরও বিচলতি হননি তিনি৷ নিজের কর্তব্য ও দায়িত্ব থেকে বিন্দুমাত্র সরে যাননি।
এ প্রসঙ্গে শুক্লা সরকার প্রেস নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ওই পরিস্থিতিতে তার পাশে থাকাটাই সবচেয়ে জরুরি ছিল৷ কিন্তু সে আমাকে সাহস দিয়েছে৷ তার সাপোর্টের কারণেই সাহস পেয়েছি৷

অসুস্থ স্বামীই নন নিজের ৩ বছরের মেয়ের দেখাশোনা ও সংসার সামলিয়ে বন্দরের মানুষকে মহামারী থেকে বাঁচাতে কাজ করে গেছেন মানবিক এই কর্মকর্তা। তাঁর এই কর্তব্যনিষ্ঠা ও মানবিকতা বন্দরের মানুষ ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে তাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। তাঁর কাজের প্রশংসা করেছেন স্থানীয় সাংসদ একেএম সেলিম ওসমান৷ গত ১৩ মে সকালে বন্দর উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সে সাতটি ইউনিয়নের নারী জনপ্রতিধিদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, এতো ভাল ইউএনও তিনি কখনও পাননি।

পাঁচটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত বন্দর উপজেলাকে করোনামুক্ত রাখার জন্য এখনও কাজ করে যাচ্ছেন ইউএনও শুক্লা সরকার৷ তবে এই সফলতার জন্য এলাকার সাধারণ জনগণকে ধন্যবাদ জানালেন তিনি৷ মুঠোফোনে তিনি বলেন, শুরু থেকেই সাধারণ জনগণের সাড়া পেয়েছেন৷ তাদের সচেতনতা ছাড়া এই সফলতা পাওয়া যেত না৷

সব খবর
পজিটিভ নারায়ণগঞ্জ বিভাগের সর্বশেষ