রবিবার ২০ জুন, ২০২১

কাউন্সিলর শফি ও হাজী রিপনের নেতৃত্বে সাংবাদিকের ওপর হামলা

মঙ্গলবার, ২৩ মার্চ ২০২১, ২০:২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হামলা ও বেধরক মারধরের শিকার হয়েছেন নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় দৈনিক পত্রিকা ‘সংবাদচর্চা’র ফটো সাংবাদিক মাহমুদুর রহমান প্রীতম। মঙ্গলবার (২৩ মার্চ) দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়কের জেলা কারাগারের বিপরীত পাশে সস্তাপুর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

এই ঘটনায় হামলার শিকার প্রীতম ফতুল্লা মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ১৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর শফিউদ্দিন প্রধান, জেলা ট্রাক ও ট্যাঙ্ক লরি শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক হাজী রিপন ও স্বপ্ননীড় হাউজিং লিমিটেডের মালিক হারুন অর রশীদের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৪০-৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে ফটো সাংবাদিক প্রীতম উল্লেখ করেন, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লা থানাধীন ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে অবস্থিত জেলা কারাগারের বিপরীতে একটি জমির উপর নির্মিত দোকানপাটে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানোর সংবাদ পান তিনি। বেলা ১২টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌছে নিজের ‘নিকন ডি-৭০০’ মডেলের ক্যামেরা দিয়ে ছবি তোলেন। ছবি তুলতে দেখে সন্ত্রাসীরা তার দিকে তেড়ে আসে। পরে সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে পরিবহন শ্রমিক নেতা হাজী রিপন তার হাতে থাকা স্টিলের হাতল দিয়ে মাথায় আঘাত করেন। একই সময় কাউন্সিলর শফিউদ্দিন প্রধান লোহার রড দিয়ে প্রীতমকে পেটান। দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে তিন নম্বর আসামি ব্যবসায়ী হারুন অর রশিদ এবং ৪০-৫০ জন হামলাকারী লোহার রড, লোহার পাইপ, কাঠ, বাঁশসহ দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র দিয়ে ফটো সাংবাদিক প্রীতমকে বেধরক মারধর করেন। মারধরের শিকার প্রীতমের ক্যামেরা, স্মার্টফোন, পকেটে থাকা টাকাসহ মানিব্যাগও ছিনিয়ে নিয়েছে সন্ত্রাসীরা।

ফটো সাংবাদিক মাহমুদুর রহমান প্রীতম বলেন, হামলার এড়াতে দৌড়ে পাশের দোকানে আশ্রয় নিলে সেখানে চায়ের গরম কেটলি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করা হয়। মাথা, হাত, পাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম করা হয়েছে। হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নেওয়ার পর তিনি বাড়িতে শয্যায় আছেন।

মারধরের ঘটনায় অভিযুক্ত নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ১৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর শফিউদ্দিন প্রধান বলেন, অবৈধভাবে জমি দখলের ঘটনায় সেখানে পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা জড়ো হয়। সেখানে ছবি তুলতে গেলে মারধরের শিকার হন সাংবাদিক প্রীতম। এটি একটি অনাকাঙ্খিত ঘটনা। তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও মারধর করেননি বলে দাবি করেন কাউন্সিলর শফিউদ্দিন প্রধান।

এদিকে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রকিবুজ্জামান বলেন, ফটো সাংবাদিককে মারধরের ঘটনায় লিখিত একটি অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। রাত ৮টায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।

সব খবর
নগরের বাইরে বিভাগের সর্বশেষ