বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর, ২০২০

টানা বর্ষণে নিতাইগঞ্জে জলাবদ্ধতা, চরম ভোগান্তিতে এলাকাবাসী

বুধবার, ২২ জুলাই ২০২০, ১৬:৪৭

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জে টানা তিনদিনের ভারী বর্ষণে বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। শহরের নিন্মাঞ্চল নীতাইগঞ্জ ও পাইকপাড়ার অনেক বাড়িতে থইথই করছে বৃষ্টির পানি। লাগাতার বৃষ্টি ও শহরের তুলনায় নিন্ম এলাকা হওয়ায় ড্রেন থাকা সত্ত্বেও পানি সড়তে পারছে না। এমতাবস্থায় চরম দুর্ভোগে এলাকাবাসী।

গত সোমবার (২০ জুলাই) থেকে নারায়ণগঞ্জে টানা বৃষ্টি হয়েই চলেছে। মঙ্গলবার সারা শহরের হাটু পানির নিচে ছিলো। রাতের দিকে শহরের পানি কমলেও কমেনি নিতাইগঞ্জের ঋষিপট্টি, নলুয়া পাড়া, পাইকপাড়া এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকার পানি। বুধবার সকাল কখনো গুড়ি গুড়ি, কখনো আবার মুষলধারে বর্ষণ দেখা যায়। এতে উক্ত এলাকার জলাবদ্ধতা আরো বেড়ে যায়। সঙ্গে এলাকাবাসির ভোগান্তিও।

বুধবার (২২ জুলাই) সকালে নিতাইগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায় দুর্ভোগের নানা দৃশ্য। বৃষ্টির পানি জমে বাড়ির সব ডুবে গেছে। ঘরের ভিতরেই হাটু সমান পানি। কেউ কেউ মাচা তৈরি করে বসবাস করছেন। জলাবদ্ধতার ফলে ড্রেনের নোংরা পানি সর্বত্র ছড়িয়ে পরেছে। সেই পানিতে শিশুদের সাতার কাটতে দেখা যায়। অনেককে আবার ওই পানি দৈনন্দিন কাজে ব্যবহার করেতে দেখা যায়। অন্যদিকে নিতাইগঞ্জের বিভিন্ন এলাকার সড়কেও জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। রাস্তা পারাপার করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে এলাকাবাসীর। একটু অসাবধান হলেই পরতে হচ্ছে ড্রেনে।

নিতাইগঞ্জ নলুয়াপাড়ার বাসিন্দা আমিন বলেন, সকাল ৬টায় ঘুম থেকে উঠেই দেখি বৃষ্টির পানি বাসার খাটের অর্ধেক পর্যন্ত উঠে গেছে। রান্না ঘরের চুলা পর্যন্ত পানিতে ডুবে গেছে। দুপুর দেড়টা বেজে গেছে এখন পর্যন্ত নাস্তা করা হয় নাই। পানি সেচার ব্যবস্থাও নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘যদি আজ সারাদিন বৃষ্টি হয় এবং আগামীকালও যদি বৃষ্টি হয় তাইলে আমাদের কোনা কিছুই থাকবে না। সব বৃষ্টির জলে ভাসবে।’

একই বাড়ির এক নারী বলেন, ‘পুরুষ লোকেরাতো কাজে চলে যায়। যা করার আমাদেরই করতে হয়। ঘরের ভিতরে হাটু সমান পানি। এই পানি কিভাবে কি করবো বুঝতে পারতেছি না। ঘরের এতো জিনস কোথায় রাখবো। কি করবো। রান্নাবান্নার তো কোনা উপায়ই নাই। তাছাড়া আছে ছোটা ছোট বাচ্চা। এদেরইবা সামলাই কেমনে। কখন পানিতে পড়ে মরে কে জানে।

এক হাতে লুঙ্গি ও অন্য হাতে জামা ধরে কোমড় পানি পাড় হয়ে বাড়ি থেকে বেড় হলেন মো. শরিফ। মো. শরিফ বলেন, ‘যত কষ্টই হোক বাড়ি থেকে তো বের হতেই হবে। কাজ তো করতে হবে। তা না হলে খাবো কি। এখন ভিজা কাপড় বদলে ছেলেকে দিয়ে কাজে যাবো। আমরা তাও ভালো আছি পাশের একটি বাড়ি অনেকটা ডুবে গেছে। মাচা পেতে রাত পার করছে।’

পাইকপাড়ার বাসিন্দা জিতু বলেন, ‘পুকুরে বিভিন্ন ধরনের প্রায় তিন লাখ টাকার মাছ চাষ করছিলাম। বৃষ্টির পানি বাড়ার কারণে পুকুরের মাছ বৃষ্টির পানির সঙ্গে ভেসে গেছে। আমার টাকা, শ্রম পানিতে।’

সব খবর
জনদুর্ভোগ বিভাগের সর্বশেষ