শুক্রবার ২৩ এপ্রিল, ২০২১

ডেন্টাল মালিককে মারধর করলেন যুব সংহতির নেতা রবিন ও তার স্ত্রী

মঙ্গলবার, ৬ এপ্রিল ২০২১, ২০:৫৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

অভিযুক্ত রবিন

অভিযুক্ত রবিন

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: ভাড়া দেওয়াকে কেন্দ্র করে শহরের সিরাজউদ্দৌল্লা সড়কের একটি ডেন্টাল ক্লিনিকের মালিক মির্জা ফায়েজ আলীকে মারধর করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ৪ এপ্রিল রাতে সোহেল মার্কেটের নিচে এই ঘটনা ঘটে। ওই সময় মার্কেটের মালিক হাবিবুর রহমানকেও মারধর করা হয়। রাতেই মারধরের শিকার ভাড়াটিয়া ও মালিক দু’জনেই সদর মডেল থানায় পৃথক দু’টি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে সিনথিয়া রহমান সিফাত (৩০) ও তার স্বামী জাতীয় পার্টির যুব সংগঠন যুব সংহতির নেতা রবিন হোসেনের (৩৫) নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

এম ঈ আলী ডেন্টালের মালিক মির্জা ফায়েজ আলী জানান, সোহেল মার্কেটের দোতলার একটি অংশে তার ডেন্টাল ক্লিনিক। তিনি এই ক্লিনিকের জন্য গত ১৫ বছর যাবৎ নিয়মিত ভাড়া পরিশোধ করছিলেন হাবিবুর রহমানকে। গত ৪ এপ্রিল সিনথিয়া রহমান সিফাত তার কাছ থেকে ভাড়া দাবি করেন। তিনি নিয়মিত যাকে ভাড়া পরিশোধ করেন তাকেই করবেন বলে জানালে স্বামী রবিন ও ১০/১২ জন অজ্ঞাত লোকজন নিয়ে এসে মির্জা ফায়েজকে মারধর করে।

ডেন্টাল মালিক বলেন, ‘সিনথিয়ার চাচা হাবিবুর রহমান। তাদের মধ্যে সম্পত্তি নিয়ে জটিলতা রয়েছে। কিন্তু সেটা তো আমার বিষয় না। আমি ভবনের মালিক হিসেবে পূর্বে যাকে ভাড়া দিয়েছি তাকেই ভাড়া দেওয়ার কথা জানিয়েছি। এতেই আমাকে এবং বাড়িওয়ালা হাবিবুর রহমানকে মারধর করা হয়।’

মির্জা ফায়েজ আলী আরও বলেন, রবিন সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোক। এমপি লিয়াকত হোসেন খোকার লোক পরিচয়ে সে কালিরবাজার এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালায়। তার ভোয়ে এলাকার কেউ কিছু বলার সাহস পায় না।

এদিকে হাবিবুর রহমান অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, তিনি ওই ভবনের প্রধান মালিক। তার ভাতিজি সিনথিয়া কিছু অংশের মালিক। তিনি ভাড়াটিয়া মির্জা ফায়েজের কাছ থেকে নিয়মিত ভাড়া পেতেন। কিন্তু ভাড়াটিয়ার কাছ থেকে ভাড়া দাবি করেন সিনথিয়া। এতে বাধা দিলে তাকে ও তার ভাড়াটিয়াকে মারধর করা হয়।

হাবিবুর রহমান বলেন, ‘আত্মীয়দের মধ্যে সম্পত্তির মালিকানা ভাগ হয়নি। পূর্বের নিয়মে সম্পত্তি ভোগদখল করছিলেন একেকজন। তারপরও আমার ভাড়াটিয়ার কাছ থেকে ভাড়া দাবি করে তারা। এর প্রতিবাদেই আমাকে মারধর করা হয়।’

এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্তদের মধ্যে রবিন হোসেনের মুঠোফোনের নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও সংযোগ পাওয়া যায়নি। দু’টি অভিযোগরই তদন্ত করছেন নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শিবলী কায়েস। তিনি জানান, হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে সে বিষয়ে প্রমাণ পেয়েছেন। এই ঘটনায় থানার ওসিকে একটি প্রতিবেদন দেবেন। পরে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সব খবর
নগর বিভাগের সর্বশেষ