বৃহস্পতিবার ০২ ডিসেম্বর, ২০২১

দেড় যুগেও বিতর্ক ছুঁতে পারেনি মেয়র আইভীকে

মঙ্গলবার, ২৩ নভেম্বর ২০২১, ২১:১৮

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জের মতো ঘটনাবহুল শহরে দীর্ঘ ১৮ বছর যাবৎ জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। দীর্ঘ এই দেড় যুগে কোন বিতর্ক ছুঁতে পারেনি তাকে, গায়ে এতটুকু দাগ লাগতে দেননি তিনি। শুধু নারায়ণগঞ্জ নয় বাংলাদেশের মধ্যে সৎ ও জনপ্রিয় রাজনীতিবিদের তালিকায় তাঁর নাম উপরের দিকেই থাকে। দুর্নীতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি কিংবা প্রভাব বিস্তারের কোনো কর্মকান্ডে জড়ায়নি তাঁর নাম। প্রয়াত পৌরপিতা আলী আহাম্মদ চুনকার যোগ্য উত্তরসুরি হিসেবে বাবার দেখানো পথেই চলেছেন নারায়ণগঞ্জের সফল মেয়র আইভী। সততা ও নির্ভীকতার পরিচয় দিয়েছেন সর্বত্র। পিতা যেমন নিজের সম্পদ বিক্রি করেছেন সাধারণ মানুষ ও নিজ দলের রাজনৈতিক কর্মীদের জন্য, একইভাবে মেয়র আইভীও নিজের পৈত্রিক সম্পত্তি দান করেছেন মানুষের কল্যাণে। এতকিছুর পরও একটি মহল যারা শহরে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি বজায় রাখতে চায়, এই শহরকে সন্ত্রাসের জনপদ হিসেবে কায়েম করতে চায়, তারা মেয়র আইভীর বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার চালিয়েছে। তবে সফল হতে পারেনি তারা। আইভীর সততা ও কর্মনিষ্ঠা তাকে সাধারণ মানুষের কাছে সকল বিতর্কের উর্ধ্বে নিয়ে গেছে। মেয়র আইভীর বিরুদ্ধে প্রভাবশালী মহলের তথ্য সন্ত্রাসে তাঁর জনপ্রিয়তা কমেনি বরঞ্চ প্রতিনিয়ত বেড়েছে তাঁর জনপ্রিয়তা।

জানা যায়, ২০০৩ সালে দেশে ফেরেন ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। তখন চিকিৎসা বিজ্ঞানে ডিগ্রি নেওয়া ডা. আইভীকে নির্বাচনে দাঁড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়। গণমানুষের নেতা আলী আহাম্মদ চুনকার মতোই তার কন্যার প্রতি নগরবাসী ও দল আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের আস্থা ছিল। আইভীও তাদের নিরাশ করেননি। প্রথমবারের মতো পৌর চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ শুরু করেন। সফলতা এনে দেন তৎকালীন নারায়ণগঞ্জ পৌরসভাকে। অপরিকল্পিত ও ধুঁকে মরতে বসা শহরকে নতুনভাবে প্রাণ দেন মেয়র আইভী। পরে পৌরসভা সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত হলে নতুন ইতিহাস গড়েন তিনি। সিটি মেয়র হয়ে দায়িত্ব ও পরিধি বেড়ে যায় কাজের। সেই ২০০৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত অত্যন্ত কর্মনিষ্ঠা ও সততার সাথে তিনি তার দায়িত্ব পালন করে আসছেন। একটি আধুনিক বাসযোগ্য নারায়ণগঞ্জ গড়তে চলছে তাঁর বিশাল কর্মযজ্ঞ। অবকাঠামোগত উন্নয়নে যেমন তিনি নজর দিয়েছেন তেমনি একটি পরিচ্ছন্ন ও সবুজ শহর গড়তে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন।

নগরবাসী ও রাজনৈতিক বোদ্ধামহলের বিশ্লেষন, দীর্ঘ এই সময়ে নিজেকে কখনই বিতর্কে জড়াননি মেয়র। এক চেয়ারে প্রায় দেড় যুগ থাকলেও দুর্নীতির লেশমাত্র লাগেনি তার গায়ে। নিজেকে যেমন সকল দুর্নীতি থেকে দূরে রেখেছেন তেমনি নিজ কর্মস্থল নগরভবনকে রেখেছেন দুর্নীতিমুক্ত। ২০১৫ সালে একবার একটি মহল তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে দুর্নীতির অভিযোগ তুললেও দুদক তার কোনো প্রমাণই পায়নি। দুদক থেকে ‘ক্লিন চিট’ পাওয়ার পর মেয়রের প্রতি গণমানুষের আস্থা আরও বেড়ে যায়। যার ফলে সম্প্রতি একটি মহল মেয়রের বিরুদ্ধে জমি দখলসহ বিভিন্ন অভিযোগ তুললেও সাধারণ জনগণের কাছে পাত্তা পায়নি তারা। সাধারণ মানুষের কাছে আইভীকে দুর্নীতিগ্রস্ত প্রমাণের চেষ্টায় এবারও ব্যর্থ ওই মহলটি। কেননা এই নগরবাসী চেনেন আইভীকে, জানেন তার সততা ও কর্মনিষ্ঠা সম্পর্কে।

নারায়ণগঞ্জ শহর একসময় সন্ত্রাসের জনপদ হিসেবে পরিচয় পেলেও স্বচ্ছ রাজনীতির মাধ্যমে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছেন মেয়র আইভী। কখনই সন্ত্রাসী কোনো কর্মকান্ডে জড়িত হননি। শহরে প্রভাব বিস্তার করার জন্য নিজস্ব কোনো বাহিনী তৈরি করেননি। তাঁর নামে কখনো এই শহরে চাঁদাবাজি হয়নি। রাজনৈতিক কিংবা সামাজিক কর্মসূচির নামে কখনো কোন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যায়নি তার ‘চাঁদার’ চিঠি। নগরীর ছোট-বড় ব্যবসায়ীরা ভয়ে তটস্ত হন না বরং তাদের পছন্দের তালিকায় মেয়র আইভীর নাম। বারবার মেয়র আইভী বলে এসেছেন, সাধারণ জনগণই তার শক্তি। সেই শক্তিতেই মানুষের জন্য কাজ করেন তিনি। এ কারণে পরপর দুইটি নির্বাচনে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর চেয়ে প্রায় লক্ষাধিক ভোটে নির্বাচিত হন তিনি।

আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদেরই অভিমত, স্বজনপ্রীতি করেন না মেয়র। নিজ দলের নেতা হলেও অনৈতিক কোনো সুবিধা মেয়রের কাছ থেকে পাননি তারা। এমনকি তার পরিবারের লোকজনও কোনো অনিয়ম, দুর্নীতি কিংবা সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি কর্মকান্ডের সাথে জড়িত হননি। প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য হলেও মেয়রের দুই ছোট ভাই সাধারণ মানুষের কাছে অতিসাধারণ হিসেবেই পরিচিত। নির্বাচন আসলে অনেকেই বিভিন্ন ছক কষতে শুরু করেন। কেউ কেউ কূটচাল করতে পিছ পা হন না। অথচ মেয়র আইভী সবসময়ই থাকেন নির্ভার। নিজেকে কাজপাগল মানুষ হিসেবেই পরিচয় করিয়েছেন সকলের কাছে। কাজের মাধ্যমেই জনগণের ম্যান্ডেট নেন তিনি। স্বচ্ছ রাজনীতিবিদকে নিরাশ করেন না সাধারণ জনগণও। গত দুই সিটি নির্বাচনে অনেক ষড়যন্ত্র হলেও জনগণ রায় দিয়েছেন তার পক্ষেই। আসন্ন সিটি নির্বাচনেও বিতর্কহীন আইভীকেই চান নগরবাসী।

সব খবর
নগর বিভাগের সর্বশেষ