শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২০

নারায়ণগঞ্জে বন্যার আশঙ্কা, পানিবন্দি চার ইউনিয়নের মানুষ

বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট ২০২০, ২০:২৮

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

সৌরভ হোসেন সিয়াম (প্রেস নারায়ণগঞ্জ): বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকেই বাড়তে থাকা শীতলক্ষ্যার পানি আরও বেড়েছে। শীতলক্ষ্যার নারায়ণগঞ্জ পয়েন্টে গত ২৪ ঘণ্টায় পানি বেড়েছে ১৭ সেমি। বর্তমানে বিপদসীমার ৩৭ সেমি উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে শীতলক্ষ্যার পানি। একই সাথে বেড়েছে বুড়িগঙ্গা ও ধলেশ্বরী নদীর পানি। এতে সদর উপজেলার চারটি ইউনিয়নের (কাশীপুর, এনায়েতনগর, বক্তাবলী, আলীরটেক) সহস্রাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে জেলায় বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সর্বশেষ তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় পানি বেড়েছে ১৭ সেমি। পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় শীতলক্ষ্যা নদী তীরবর্তী নিচু এলাকাগুলো প্লাবিত হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের সেন্ট্রাল খেয়াঘাট সংলগ্ন বন্দর বাজারটিতে পানি প্রবেশ করেছে, ডুবেছে দোকানপাট এবং নদী পারাপারের জেটি। পানি মাড়িয়ে চলাচল করছে মানুষজন।

এদিকে বুড়িগঙ্গা ও ধলেশ্বরী নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সদর উপজেলার চারটি ইউনিয়নের সহস্রাধিক ঘরবাড়ি পানির নিচে ডুবে গেছে। এতে কয়েক হাজার মানুষ পানি বন্দি অবস্থায় জীবন যাপন করছে।

সদর উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার বক্তাবলী ইউনিয়নের ১ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব গোপালনগর, প্রতাপনগরের দুইশ’ পরিবার, কাশীপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ঘনবসতিপূর্ণ উত্তর নরসিংপুরের আড়াইশ’ পরিবার, আলীরটেক ইউনিয়নের ১ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের অর্ধশতাধিক পরিবার, এনায়েতনগর ইউনিয়নের ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ধর্মগঞ্জসহ কয়েকটি এলাকার সাড়ে চারশ’ পরিবার পানিবন্দি। বুড়িগঙ্গা ও ধলেশ্বরীর পানি অস্বাভাবিক মাত্রায় বেড়ে যাওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার দিবাগত রাত আটটার পর থেকে নদীর পানি অত্যাধিক মাত্রায় বাড়া শুরু করেছে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

প্লাবিত এলাকাগুলো পরিদর্শন করেছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সেলিম রেজা, সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদা বারিক। নাহিদা বারিক বলেন, বুড়িগঙ্গা ও ধলেশ্বরী নদীর পানির বৃদ্ধি পাওয়ায় নদীবেষ্টিত চারটি ইউনিয়নের কয়েকশ’ বাড়িঘর পানির নিচে তলিয়ে গেছে। পানিবন্দি পরিবারের খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। ভুক্তভোগীদের সরকারি সহযোগিতা দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে। ইতিমধ্যে বরাদ্দ এসেছে বলেও জানান তিনি।

ইউএনও বলেন, বুধবার রাত আটটা থেকে পানি অত্যাধিক মাত্রায় বাড়তে শুরু করে। স্থানীয় সরকারি স্কুলগুলোকে প্রস্তুত করা হচ্ছে। তবে মানুষজন নিজের বাড়ি ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে আসার ব্যাপারে তেমন উৎসাহী নয়।

জেলা প্রশাসক মো. জসিম উদ্দিন জানান, সদর উপজেলার বেশ কিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ফলে কয়েকটি টিনের ঘর ভাঙ্গনের শিকার হয়। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এলাকাগুলো পরিদর্শন করে কিছু ত্রাণ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

সব খবর
জনদুর্ভোগ বিভাগের সর্বশেষ