শুক্রবার ২৩ এপ্রিল, ২০২১

পালানোর সুযোগ নেই, প্রস্তুতি নিন: রফিউর রাব্বি

সোমবার, ৮ মার্চ ২০২১, ২৩:০৪

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আহ্বায়ক শিল্পী রফিউর রাব্বি বলেছেন, ‘যদি শামীম ওসমান পরিবার ত্বকীকে হত্যা না করতো তাহলে আমাদের বিচার নিয়ে এই আট বছর আসতে হয় না। রাজন রাকিবের হত্যার বিচার চার বা সাড়ে চার মাসের মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ত্বকী হত্যার বিচারও এক বছরের বেশি লাগতো না, এই ওসমান পরিবার বলেই আট বছর এসেছে। শামীম ওসমান যেটিকে রক্ষাকবচ মনে করছে সেটি তাকে তার মৃত্যুর ঠিকানায় নিয়ে যাবে। আমরা পথ ছাড়ছি না। আমরা অনেক দুঃশাসন অতিক্রম করেছি এবং করছি, এ থেকে আমরা পরিত্রাণ পাবো। মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠিত হবে ও দুঃশাসন দূর হবে। তারা মনে করেছে হয়তো কোন পরিবর্তন হলে তারা পালিয়ে যাবে কিন্তু পালানোর কোনো সুযোগ নাই। সুতরাং প্রস্তুতি গ্রহণ করেন।’

সোমবার (৮ মার্চ) সন্ধ্যায় শহরের ৫ নম্বর খেয়াঘাট এলাকায় ত্বকী হত্যা ও বিচারহীনতার ৮ বছর উপলক্ষে আয়োজিত ‘আলোর ভাসান’ কর্মসূচিতে তিনি এসব কথা বলেন।

রফিউর রাব্বি আরও বলেন, ‘ইতিহাস বক্তা শামীম ওসমান রাজাকারকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বানিয়ে দিবে, এত বড় তার সাহস হয় কীভাবে। সে কী মনে করে, নারায়ণগঞ্জের সব মানুষ টিপ সই? কেউ পড়াশোনা জানে না? সে মাইক লাগিয়ে প্রশাসনের সামনে বলে দিবে আর সেটি সত্য হয়ে যাবে।’

রাইফেল ক্লাবের অস্ত্র লুট হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘রাইফেল ক্লাবের অস্ত্র কখনোই আমাদের মুক্তিযুদ্ধে লাগে নাই ও ব্যবহৃত হয় নাই। এই রাইফেল ক্লাব থেকে কোন অস্ত্র লুট হয় নাই। একাত্তরের ২৫ তারিখ সকাল ৯টা থেকে ১০টা। এ সময়ের মধ্যে আমাদের কোর্ট থেকে অস্ত্র লুট হয়েছে অথবা এটি তারা সরবরাহ করেছে। সেই সময়ে ছাত্রলীগের ঢাকা জেলা কমিটির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম পরবর্তীতে বিএনপির হয়ে সংসদ সদস্য হয়েছেন যিনি, তাঁর নেতৃত্বে কোর্টে গিয়ে গিয়ে বলা হয়, অস্ত্রগুলো আমাদের দিয়ে দাও। তারা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে অবস্থান নিয়ে নিয়েছে এবং তারা বলেছে, আমরা অস্ত্রগুলো তোমাদের হাতে তুলে দিতে পারবো না। কিন্তু তোমরা লুট করে নিয়ে যাও, আমরা বাধা দিবো না। তখন তারা এখান থেকে ১২১টি রাইফেল ও ৬ পেটি গুলি লুট করেছে। এগুলো নিয়ে দেওভোগ জনকল্যাণ সমিতিতে তারা রাখে এবং ওইদিন বিকেলেই দেওভোগ নাগবাড়ি মাঠের মধ্যে যুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণ করে।’

রফিউর রাব্বি বলেন, ‘১৯৭১ সালের মে মাসে গঠন করা ১২৪ জনের শান্তিবাহিনীর কমিটির চাষাঢ়া অঞ্চলের দায়িত্ব দেওয়া হয় গোলাম রাব্বানীকে। সে নন্দীপাড়ার অমিয় নন্দীর বাড়ি দখল করে নিজের সাইনবোর্ড লাগিয়ে দিয়েছে। হিন্দুদের জায়গা সম্পত্তি দখল করেছে সে।’

রাজাকার গোলাম রাব্বানীকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে আনার অপচেষ্টা করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তাকে এখন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে আনতে হবে। কারণ এই কুখ্যাত রাজাকারের সন্তান কাজল (নারায়ণগঞ্জ চেম্বারের সভাপতি) হচ্ছে ওসমান পরিবারের অন্যতম সহযোগী। এই কাজলকে এখন সাবান দিয়ে ধুয়ে পরিষ্কার করতে হবে। এই পথে তাদের আবার সহযোগী তৈরি হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নামে কয়েকজন আছে সহযোগীদের মধ্যে। ওসমান পরিবারের সাথে খারাপ লোকদের সাথে সম্পর্ক, রাজাকারদের সম্পর্ক। বঙ্গবন্ধুর খুনি কিসমত হাশেমের আপন ভাই হচ্ছে কাউন্সিলর শওকত হাসেম শকু। এই শকুর সাথে ওসমান পরিবারের সম্পর্ক, ওসমান পরিবার এই শকুর পৃষ্ঠপোষক। সুতরাং যত খুনি আছে, রাজাকার আছে সব এদের সাথে সম্পর্ক।’

ত্বকী হত্যা প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘র‌্যাবের অভিযোগপত্রে তারা বলেছে, শামীম ওসমানের ভাতিজা আজমেরি ওসমান ত্বকী হত্যায় জড়িত। এবং যে এগারো জনের নাম এসেছে তার মধ্যে শামীম ওসমানের বিয়াই (ফয়েজউদ্দিন লাভলু) এর ভাতিজা জ্যাকিও এই ত্বকী হত্যার সাথে জড়িত। এই জ্যাকির নামও অভিযোগপত্রে রয়েছে। চোর যেমন চোর খোঁজে, ডাকাত যেমন ডাকাত, তেমনি খুনি পরিবার খুনি পরিবারের সাথে আত্মীয়তা করে। এদের সাথে ভালো পরিবার আসার কোনো কারণ নাই।’

নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি ভবানী শংকর রায়ের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন সিটি মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী, নিহত ত্বকীর পিতা শিল্পী রফিউর রাব্বি, ঊদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক জামশেদ আনোয়ার তপন, জেলা সভাপতি জাহিদুল হক দিপু প্রমুখ। উপস্থিত ছিলেন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিকসহ বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ।

সব খবর
নগর বিভাগের সর্বশেষ