শুক্রবার ২৩ এপ্রিল, ২০২১

বাধার মুখে মুজিববর্ষে নির্মিতব্য মডেল মসজিদের নির্মাণকাজ

শনিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২২:০৮

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: মুজিববর্ষে জনগণের জন্য উপহার হিসেবে সারা দেশে মডেল মসজিদ ও ইসালমিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। এই প্রকল্পের আওতায় নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মন্ডলপাড়া এলাকায় নির্মিত হচ্ছে প্রায় ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে চারতলা নারায়ণগঞ্জ জেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র৷ সিটি কর্পোরেশনের সহায়তায় মসজিদ নির্মাণকাজ বাস্তবায়নে কাজ করছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও গণপূর্ত অধিদপ্তর। গত ১২ জানুয়ারি ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আনিস মাহমুদ ও নারায়ণগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জাকির হোসাইনের উপস্থিতিতে নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। কিন্তু মামলার কারণে এখন বাধার মুখে পড়েছে মন্ডলপাড়া জামে মসজিদ কমপ্লেক্সের ওয়াকফ এস্টেটের ৪৩ শতাংশ জায়গায় নির্মিতব্য এই মসজিদ নির্মাণ কার্যক্রম। ২০১৯ সালে মসজিদটি নির্মাণের জন্য অনাপত্তি দিলেও বর্তমানে এই জায়গায় কোন স্থাপনা নির্মাণে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চেয়ে মামলা করেছেন মন্ডলপাড়া জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির মোতাওয়াল্লি। দায়ের করা মামলার বিপরীতে কেন অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেওয়া হবে না তার জন্য কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

গত ২৩ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জের সহকারী জজ ৪র্থ আদালতে করা মামলায় আসামি করা হয়েছে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী ও তিনটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিকদের। মামলায় মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী ও তিনটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিকদের বিরুদ্ধে মডেল মসজিদের ৪৩ শতাংশ সহ ওয়াকফ এস্টেটের মোট ৮৩ শতাংশ জায়গা দখলের চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার বিবরণীতে বলা হয়েছে, মন্ডলপাড়া মসজিদ ও মসজিদ সংলগ্ন বিভিন্ন দাগে ৮২ দশমিক ৯০ শতাংশ মীর শরিয়ত উল্লাহ (মন্ডলপাড়া জামে মসজিদ) ওয়াক্ফ এস্টেট রয়েছে। এই জমি দখলের অপচেষ্টা চালাচ্ছেন বলে সিটি মেয়রের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়। তবে এই এস্টেট থেকে ৪৩ শতাংশ জমি নারায়ণগঞ্জ জেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণের জন্য দেওয়া হয়েছে।

এদিকে মামলার পর সংবাদ সম্মেলন করেছেন মন্ডলপাড়া জামে মসজিদের মোতাওয়াল্লিসহ মসজিদ কমিটির লোকজন। সংবাদ সম্মেলনে মসজিদ কমিটি অভিযোগ করে বলেন, লোকমুখে শুনেছেন, মেয়র এই জমিতে বাণিজ্যিক ভবন ও তার পিতার নামে স্থাপনা নির্মাণ করবেন।

শনিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর তিনটায় চাষাঢ়ায় রাইফেলস্ ক্লাবে অনুষ্ঠিত ওই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মসজিদের মোতাওয়াল্লি সাখাওয়াত উদ্দিন, সভাপতি আব্দুর রহমান, কোষাধ্যক্ষ শহীদ হোসেন খন্দকার, সদস্য রফিকউদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে এই মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর কেন মেয়র আইভী করেছেন তা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করে মসজিদ কমিটি। মসজিদ কমিটির পক্ষে এই সময় জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মোহসীন মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমানও উপস্থিত ছিলেন সংবাদ সম্মেলনে।

যদিও এই মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর করার সময় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেছিলেন, ‘মডেল মসজিদ নির্মাণের জন্য যখন জায়গা চাওয়া হলো আমি এই জিমখানা মসজিদটির কথা বলি। কেননা পুরো জেলার মধ্যে সবচেয়ে পুরাতন মসজিদ হলো এটি। মসজিদ সম্প্রসারণের জন্য আমি সিটি করপোরেশনের যে সামনের ভবনটি আছে সেটিও ছেড়ে দিয়েছি। তাই মসজিদ সম্প্রসারণের জন্য পাশের এই ভবনটিও ভাঙ্গা হবে। প্রধানমন্ত্রী আমাদের জন্য এত কিছু করেছেন সেজন্য আমরা যদি তার জন্য দোয়া না করি তাহলে আমরা অকৃতজ্ঞ হয়ে গেলাম। আমরা আশা করছি ২০২১ সালের মধ্যেই মসজিদটির কাজ সম্পূর্ণ হলে উদ্বোধন করবো।’

সংবাদ সম্মেলনে মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ লিখিত বক্তব্যে বলেন, ২০১৯ সালের ২১ মার্চ ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অধীন জেলা মডেল মসজিদ নির্মাণের প্রস্তাবের বিষয়ে মতবিনিময়ের জন্য একটি পত্র দেয়া হয়। ওই প্রস্তাবে ইসলামিক ফাউন্ডেশন এস্টেটের ৪৩ শতাংশ জমির চাহিদা দেওয়া হয়। এই প্রস্তাবে মসজিদ কমিটি অনাপত্তি প্রদান করে। তবে সিটি মেয়র আইভী এই ৪৩ শতাংশের বাইরে ৪০ শতাংম জমি দখল করতে চাইছেন বলে অভিযোগ তোলেন মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক। এ বিষয়ে মামলা করলে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেন আদালত।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘আদালত যদি কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয় তাহলে সে হিসেবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তখন হয়তো স্থান পরিবর্তন করতে হতে পারে। স্থান নির্ধারণ করে দেবে সরকার কেবল বাস্তবায়নে কাজ করবো আমরা।’

এ বিষয়ে জানতে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেন, ‘মুজিববর্ষে সরকারের প্রকল্পের আওতায় মন্ডলপাড়ার ওয়াক্ফ করা জায়গায় সিটি কর্পোরেশনের সহায়তা নিয়েই মডেল মসজিদ নির্মাণের কাজটি হচ্ছে। আমিই এটির ভিত্তিপ্রস্তর করেছি। আমি এটি কেন উদ্বোধন করলাম এটিই হলো আমার চরম অপরাধ। ওয়াক্ফ জায়গায় আমি ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে কেন বললাম এখানে মসজিদটি করেন সেটিই হয়ে গেছে আমার অপরাধ। প্রধানমন্ত্রী এত সুন্দর মসজিদ উপহার দিচ্ছেন তা আমরা দেখছি না। শত্রুতার কারণে মেয়র আইভীকে ভূমিদস্যু বানাতেই হবে এজন্য কত ধরনের চক্রান্ত।’

পাল্টা প্রশ্ন তুলে মেয়র আরও বলেন, ‘যিনি এখন মসজিদের মোতাওয়াল্লি তারা তো এই জমি দান করেন নাই। এমনকি তাদের পিতা বা দাদাও এই জমি দান করেনি। জমিটি দান করেছে বিশু বেপারী। যার সাথে বতর্মানের কোনো সম্পর্ক নাই। তাহলে সে কীভাবে মোতাওয়াল্লি হয়ে আছে?’

সব খবর
নগর বিভাগের সর্বশেষ