শুক্রবার ২৩ এপ্রিল, ২০২১

বাবার মিথ্যা মামলায় আসামিদের কারাবাস, না’গঞ্জে উদ্ধার দুই ছেলে

বুধবার, ৭ এপ্রিল ২০২১, ২২:০১

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: বাবার কথায় আত্মগোপণে ছিল দুই ছেলে। এদিকে বাবা দুই ছেলেকে অপহরণ মামলা দিয়েছেন তার তিন ভাইসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে। আসামিরা সকলে গ্রেফতার হয়ে বিভিন্ন মেয়াদে কারাভোগ করলেও খোঁজ মিলছিল না দুই অপহৃতের। ঘটনার তিন বছর পর গত সোমবার (৫ এপ্রিল) তথ্য প্রযুক্তির সাহায্যে পুলিশের অভিযানে নারায়ণগঞ্জ থেকে উদ্ধার হয় কথিত অপহৃত দুই ছেলে। তাদের দেওয়া জবানবন্দিতে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে দুই ছেলে জানায়, অপহরণ নয় বাবার কথায় নাম-পরিচয় পাল্টে নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকায় আত্মগোপণে ছিল তারা।

ঘটনাটি ঘটেছে ভোলার রাজাপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের শ্যামপুর গ্রামে। ওই গ্রামের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বেপারী। জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ভাইদের জব্দ করতে শিশুপুত্র ঈমাম হোসেন ইমন (১০) ও নিজাম উদ্দিনকে (২৫) অপহরণের অভিযোগে দু’টি মিথ্যা মামলা দায়ের করেন রফিকুল ইসলাম বেপারী। পুলিশের অভিযানে উদ্ধার হওয়া রফিকুলের দুই ছেলে গত মঙ্গলবার (৬ এপ্রিল) আদালতে এমনটাই স্বীকার করেছেন। পরে আদালত দুইজনকে সেভ কাস্টডিতে পাঠান। একই সাথে মিথ্যা অপহরণ মামলার বাদী রফিকুল ইসলাম বেপারীকে আটক করে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন পুলিশ। রহস্যের জট উন্মোচনের জন্য আদালত মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে ধন্যবাদ জানান। একইসঙ্গে অভিযুক্ত আসামিদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার নির্দেশ দেন।

মামলার নথিসূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ২১ ডিসেম্বর শিশু পুত্র ঈমন ও ২০১৮ সালের ২৫ মে বড় ছেলে নিজামউদ্দিনকে মারধর করে অপহরণ করা হয়ে উল্লেখ করে পৃথক সময়ে দু’টি অপহরণ মামলা করেন রফিকুল ইসলাম। দুই মামলায় নিজ তিন ভাইসহ ৯ জনকে আসামি করেন। পৃথক সময়ে আসামিরা গ্রেফতারও হন। বিনা অপরাধে কারাভোগ করতে হয়েছে তাদের। মামলার এক পর্যায়ে মামলা দু’টি সাজানো হতে পারে সন্দেহ প্রকাশ করে আদালত তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় মোবাইল ফোন ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে অপহৃতদের উদ্ধার তৎপরতা বাড়ানোর নির্দেশ দেন। আর এতেই বের হয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য।

তিন বছর ৩ মাস বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়েও পুলিশ অপহৃতদের উদ্ধার করতে পারেন নি। পরে গত মাসে বিচারকের নির্দেশে পুলিশ মোবাইল ফোন ট্রাকিং করে নারায়ণগঞ্জ এলাকায় শিশু ঈমান হোসেন ইমন ও নিজাম উদ্দিনের অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর এসআই মিজানুর রহমান অভিযান চালিয়ে তাদের উদ্ধার করেন। গত সোমবার ভোলায় নিয়ে আসেন। আদালতকে শিশু ইমন জানায়, জমিজমার বিরোধের কারণে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে তার বাবা প্রথমে তার নাম পাল্টে চট্টগ্রামের একটি মাদ্রাসায় ভর্তি করান। একইভাবে নাম পরিবর্তন করে ভাই নিজাম চাকরি নেন। পরে তারা ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে চলে আসেন। নারায়ণগঞ্জেও ঈমনকে সিরাজ নামে একটি মাদ্রাসায় ভর্তি করানো হয়। তাদের সঙ্গে তার পিতা মোবাইল ফোনে কথা বলতেন। একই সঙ্গে কয়েক মাস পর পর দেখা করতেও যেতেন। আদালত দুইজনের বক্তব্য রেকর্ড করেন। পরে এদের নিরাপদ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন।

সব খবর
নগর বিভাগের সর্বশেষ