রবিবার ০৯ মে, ২০২১

বিপন্ন মানুষের পাশে প্রশাসন, নেই জনপ্রতিনিধি-নেতারা

বুধবার, ২১ এপ্রিল ২০২১, ২০:৫৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: গেল বছর সারাদেশে সাধারণ ছুটি থাকাবস্থায় করোনা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় নারায়ণগঞ্জে লকডাউন ঘোষিত হয়েছিল। অফিস-আদালত-দোকানপাট-গণপরিবহন সব বন্ধ থাকায় লকডাউনে খেটে-খাওয়া মানুষরা পড়েছিলেন বিপাকে। সে অবস্থায় খেটে খাওয়া মানুষদের পাশে সরকারি ত্রাণের পাশাপাশি খাদ্যসামগ্রী দিয়ে সেসব মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন অনেকেই। ব্যক্তিগত তহবিল থেকে জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতারাও নগদ অর্থ ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছেন। তাতে খেটে খাওয়া মানুষগুলো পেয়েছিল সাময়িক স্বস্তি। তবে এবার করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে টানা তিন দফায় লকডাউনের সময় বাড়ানো হলেও এখন পর্যন্ত সেসব রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ী নেতাদের কোনো কর্মকান্ড পরিলক্ষিত হয়নি। তবে নিজস্ব তহবিল থেকে দুই দফায় ৬০০ মানুষকে খাদ্যসামগ্রী প্রদান করেছে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন।

গত ৪ এপ্রিল সারাদেশে এক সপ্তাহের লকডাউন ঘোষণা করে সরকার। পরে ১৪ এপ্রিল লকডাউনের সময় আরও এক সপ্তাহ বাড়ানো হয়। এবার লকডাউন আরও কড়াকড়ি করা হয়। তৃতীয় দফায় আবারও ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত লকডাউন বাড়ানো হয়। এই ‘সর্বাত্মক লকডাউনে’ পোশাক কারখানা ছাড়া বাকি সব অফিস-আদালত ও ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠান, দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। বাসসহ বিভিন্ন গণপরিবহনও রয়েছে বন্ধ। এতে অনেকেই আবার কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। পুনরায় বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষজন। এবার লকডাউনে রমজান মাস হওয়াতে ভোগান্তি বেড়েছে আরও কয়েকগুণ। তবে এবার তাদের পাশে নেই কেউ। তবে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, তারা এ বিষয়ে চিন্তা করছেন। শীঘ্রই পরিকল্পনা করে ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াবেন তারা। অনেকেই ব্যক্তিগতভাবে বিভিন্ন মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন বলেও জানান তারা।

ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি আব্দুল হাই বলেন, লকডাউন ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত রয়েছে। এরপর লকডাউন শিথিল করার এক ধরনের কথা শুনতে পাচ্ছি। যদি তেমনটা না হয় তাহলে আমরা এ নিয়ে পরিকল্পনা করবো।

এ বিষয়ে কথা বলতে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক তৈমুর আলম খন্দকারের মুঠোফোনের নম্বরে একাধিকবার কল দিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সবুর খান সেন্টু বলেন, হেফাজতের ঘটনায় বিএনপির নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। আমাদের অনেক নেতা এখন গ্রেফতার আতঙ্কে আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে গেছেন। কোনো কর্মসূচি দিতে পারতেছি না। কর্মসূচি দিলেই আমাদের গ্রেফতার করা হবে। তারপর কেন্দ্রীয়ভাবে আমাদের নেতারা আমাদের সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশনা দিয়েছেন। আমরা সে অনুযায়ী কাজ করবো।

নিট ব্যবসায়ীদের সর্ববৃহৎ সংগঠন বিকেএমইএ’র প্রথম সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, বিকেএমইএ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমরা এই ধরনের কর্মসূচি রাখি না। তবে আমাদের ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন পর্যায় থেকে বিভিন্ন সময় মানুষের পাশে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। এই কার্যক্রম পূর্বেও ছিল এখনও চলছে।

তবে ইতিমধ্যে অসহায় ও কর্মহীন মানুষদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণের প্রস্তুতি নিয়েছেন বলে জানালেন গণসংহতি আন্দোলনের নারায়ণগঞ্জ জেলা সমন্বয়কারী তরিকুল সুজন। তিনি বলেন, শুরুতে সিটি কর্পোরেশনের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের সিটি কলোনীতে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা শুরু হবে। পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন এলাকায় হতদরিদ্রদের মাঝে আমরা খাদ্যসামগ্রী দেবো।

তিনি আরও বলেন, আসলে লকডাউন দেওয়ার জন্য যা যা প্রস্তুতি নেওয়ার প্রয়োজন তা সরকার নেয়নি। লকডাউন দেওয়ার সামর্থ্যও সরকার হারাইছে। স্বল্প আয়ের লোকজনের জরিপ করা প্রয়োজন। তা না করে উল্টো শহরে রিকশাওয়ালাদেরকে জরিমানা করে, রিকশা উল্টিয়ে রেখে যেভাবে নিপীড়ণ-নির্যাতন করা হচ্ছে তা অত্যন্ত ভয়াবহ। মানুষের ঘরে খাবার পৌছে দেওয়া ছাড়া এই লকডাউন কার্যকর সম্ভব না।

এদিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) খেটে খাওয়া মানুষদের এক বেলা খাবার প্রদানের উদ্দেশ্যে গত বছরের মতো এবারও কমিউনিটি কিচেনের কার্যক্রম শুরু করেছে। তারা প্রতিদিন খাবার রান্না করে তা বিতরণ করছেন ছিন্নমূল মানুষদের মাঝে।

সব খবর
নগর বিভাগের সর্বশেষ