শুক্রবার ২৩ এপ্রিল, ২০২১

মন্ত্রীত্বের জন্য সৈয়দ আশরাফের নাম প্রস্তাব করেছিলেন শামীম ওসমান

সোমবার, ১ মার্চ ২০২১, ১৯:১৭

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: নিজে মন্ত্রীত্ব না নিয়ে প্রয়াত জনপ্রশাসন মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের নাম প্রস্তাব করেছিলেন একেএম শামীম ওসমান। গতকাল রোববার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে নিজের ৬০তম জন্মদিনের অনুষ্ঠানে এই কথা জানান খোদ শামীম ওসমান। তিনি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এর আগেও দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।

সাংসদ শামীম ওসমানের ৬০তম জন্মদিনের জাকজমকপূর্ণ আয়োজন করা হয় ফতুল্লার নাসিম ওসমান মেমোরিয়াল (নম) পার্কে। ওই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন শামীম ওসমান। তিনি বলেন, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর তাকে মন্ত্রীত্বের প্রস্তাব দেয়া হয়। কিন্তু সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের নাম প্রস্তাব করেন। আরও একবার মন্ত্রীত্বের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ার পর তার সহকর্মী ও বন্ধুরা বকাবকি করেছিলেন বলেও জানান শামীম ওসমান।

তিনি বলেন, ‘১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পরে আমাকে মন্ত্রী হতে বলা হয়েছিল। আমি তখন নিজে না হয়ে সৈয়দ আশরাফ ভাইয়ের নাম প্রস্তাব করি। পরে যখন আবার মন্ত্রী হওয়ার জন্য বলা হলো তখন আমার বন্ধু আলাউদ্দিন নাসিম, নানক ভাই, মির্জা আজম মানে আমাদের যে ব্যাচ, এমনকি ওবায়দুল কাদের ভাই যার হাত ধরে আমরা রাজনীতি করেছি সবাই বকাবকি করেছে কেন মন্ত্রী হলাম না। কিন্তু আমাদের মূল উদ্দেশ্য হলো আমরা মানুষের মনে স্থান করে নিতে চাই। কারণ আমরা রাজনীতি করতে এসেছি জমিদারি করতে না, বরং দিতে। জনগণের কল্যাণে কাজ করাটাই আমার লক্ষ্য।’

এর আগেও বিভিন্ন সভা-সমাবেশে শামীম ওসমান জানিয়েছেন, তাকে একাধিকবার মন্ত্রীত্বের প্রস্তাব দেওয়া হলেও তিনি তা ফিরিয়ে দিয়েছেন। তবে মন্ত্রীত্বের জন্য প্রয়াত নেতা সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের নাম প্রস্তাবের কথা এবারই প্রথম জানালেন।

উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালের সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-১ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। তিনি সরকারের ওই মেয়াদে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিনি ২০০১ সালে পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর পররাষ্ট্র বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হন। ২০০৮ সালের সাধারণ নির্বাচনে তিনি পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে মন্ত্রিসভা গঠিত হলে তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। ২০১৪ সালেও আওয়ামী লীগ সরকারের একই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৫ সালের ৯ জুলাই তাকে দফতরবিহীন মন্ত্রী করা হয়। মাসখানেক পর তাকে প্রধানমন্ত্রী নিজের অধীনে রাখা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেন।

সব খবর
রাজনীতি বিভাগের সর্বশেষ