সোমবার ২১ জুন, ২০২১

মুসলমান হিসেবে প্রত্যেকে হেফাজতের কর্মী: মাওলানা আউয়াল

শুক্রবার, ২ এপ্রিল ২০২১, ১৯:০২

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর ও নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি মাওলানা আব্দুল আউয়াল বলেছেন, হেফাজতে ইসলামের ডাকে শান্তিপূর্ণ হরতালে মধ্যে আমার ভাই কেন গুলি খেয়ে মৃত্যুবরণ করলো এই প্রশ্নটা আমি রাখতে চাই। গত শুক্রবারে বায়তুল মোকারমে আমাদের কিছু ভাইয়েরা সেখানে গিয়ে ছিল দ্বীনের ও ইসলামের ডাকে। সেখানে আওয়ামী লীগের হেলমেট পড়া অতিউৎসাহি সন্ত্রাসী বাহিনীরা তাদের উপর আক্রমণের কারণেই ব্রাহ্মণবাড়িয়া, হাটহাজারীসহ সর্বত্র গোলযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

শুক্রবার (২ এপ্রিল) নারায়ণগঞ্জ ডিআইটি মসজিদের সামনের সড়কে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

তিনি বলেন, বায়তুল মোকারমের হামলাটাই সারা দেশে অশান্তি সৃষ্টি করার মূল কারণ। আগে বায়তুল মোকারমে যারা হামলা করেছে তাদেরকে বিচারের আওতায় আনতে হবে। তার পর বাকিগুলার মধ্যে কারা সন্ত্রাসী করেছে তাদেরকে একের পর এক আইনের আওতায় আনতে হবে। আমি দাবি জানাচ্ছি সুষ্টু তদন্তের মাধ্যমে কারা গাড়ি পুড়াইছে, কারা গাড়ি ভাঙ্গছে আমরা ভিডিও ফুটেজে সব দেখেছি। এখানে কোন ভাবে নিজেদের খুশি মতো হেফাজতের কোন কর্মীকে আইনের আওতায় এনে যদি শাস্তি দেয়া হয় হেফাজত ইসলাম বাংলাদেশ থেকে কঠোর আন্দোলনের ডাক দেয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, আমি প্রশাসনকে বারবার বলতে চাই আমরা শান্তি প্রিয় মুসলমান। সারা পৃথিবীর মধ্যে আল্লাহর নবীর উম্মত হিসেবে তারা শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে চায়। কোন দিন উশৃঙ্খলতা করে নাই। কিন্তু যখন হাতি সাপের লেজ দিয়ে কান চুলকাইতে যাবেন অবশ্যই সে আপনাকে ছোবল দিবে। ছেড়ে দিবে না। শান্তি প্রিয় জনগণকে শান্তিতে বসবাস করতে দেন। তাদেরকে কোন দিন উশৃঙ্খলতার দিকে নিবেন না। এই দেশের সকল মুসলমান শান্তি প্রিয়। কারও জান-মাল নষ্ট করতে চায় না। যারা করতে চান তারা নিশ্চয় ইসলামের বিপক্ষ শক্তি বলে আমরা মনে করবো। তারা ইসলামের কিংবা হেফাজতের কোন কর্মী নয়। আন্দোলনের মধ্যে উশৃঙ্খলতা কারা করেছে তাদেরকে আপনারা সঠিকভাবে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে বিচার করুন। বাংলাদেশ হেফাজত ইসলামকে কোন দিন কেউ দমাইয়া রাখতে পারে নাই পারবেও না। মুসলমান হিসেবে প্রত্যেকে হেফাজতের কর্মী।

মাওলানা আব্দুল আউয়াল বলেন, আমরা সামনে সুশৃঙ্খলভাবে আন্দোলন করবো। যারা শাহাদাত বরণ করেছে আমাদের নিজেদের চেষ্টায় তাদের কিছু ক্ষতিপূরণ দিব। আমি সরকার কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি, আমাদের আহত এবং নিহতদের পরিবারের জন্য আপনারা তাদেরকে ক্ষতিপূরণ দিয়ে দেশের জনগণের অন্তরকে শান্তি করবেন। তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবারে উপর নজর দিবেন। বিশেষ করে মামলা দিয়ে হেফাজতের কর্মীদেরকে অন্যায়ভাবে হয়রানী করবেন না। যদি করেন আমার আল্লাহ আপনাদেরকেও ছেড়ে দিবে না।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, হেফাজতে ইসলাম জেলার সাধারণ সম্পাদক মুফতি বশিরউল্লাহ, জেলা ওলামা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন কাসেমী, হেফাজতে ইসলাম মহানগরের সভাপতি ফেরদাউসুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ, অনৈসলামিক কার্যকলাপ প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি আতিকুর রহমান নান্নু মুন্সি প্রমুখ।

সব খবর
রাজনীতি বিভাগের সর্বশেষ