সোমবার ২১ জুন, ২০২১

মে দিবসের ১৩৫ বছরের ডাকে শ্রমিক সংহতির সমাবেশ

শনিবার, ১ মে ২০২১, ১৭:৪৯

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: করোনাকালে টালবাহানা নয়, মালিক, সরকার ও বায়ারকে শ্রমিকের শতভাগ দায়িত্ব নিতে হবে। এমন দাবি তুলেছে জেলা গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতি। মে দিবসের ১৩৫ বছরের ডাক উপলক্ষে সংগঠনটির উদ্যোগে শনিবার (১ মে) শহরের দুই নম্বর রেলগেইট এলাকায় বঙ্গবন্ধু চত্ত্বরে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরে একটি মিছিল শহরের বঙ্গবন্ধু সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

জেলা গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির আহ্বায়ক অঞ্জন দাসের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক জুলহাসনাঈন বাবু, বাংলাদেশ ট্রেড ফেডারেশনের সহসাধারণ সম্পাদক আলিফ দেওয়ান, শহর শাখার আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম বাবু, সিদ্ধিরগঞ্জ শাখার আহ্বায়ক মাহমুদ কলি হারুন, ফতুল্লা শাখার সম্পাদক সোহাগ প্রমুখ। এ সময় সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন জেলা গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়কারী তরিকুল সুজন, জেলা নারী সংহতির সাধারণ সম্পাদক পপি রাণী সরকার, জেলা ছাত্র ফেডারেশনের সাবেক সভাপতি শুভ দেব, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ফারহানা মানিক মুনা প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, এই মে দিবস কেবলমাত্র গার্মেন্টস বা পোশাক শ্রমিকদের জন্য নয় বরং এই দিবস আমাদের সকলের। বর্তমানে করোনার সময়ে শ্রমিকদের উপর অত্যাচার ও নির্যাতন কমতে দেখিনি। সেই সাথে নিত্যপণ্যের মূল্য যে হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে সেভাবে গার্মেন্টস শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি পাচ্ছে না। মে দিবসে শ্রমিকদের অধিকার ও দাবি আদায়ের কথা বলা হলেও আজ পর্যন্ত কোন গার্মেন্টস মালিকদের দাবি পূরণ করতে দেখিনি। এবং শ্রমিকরা তাদের অধিকার ও দাবি আদায়ের কথা বললে উল্টো তাদেরকে ছাঁটাইয়ের খড়গ দিয়ে শোষণ করা হচ্ছে। এই কোভিডকালে অনেককে ত্রাণ দিতে দেখা গেলেও এ বছরে কোন গার্মেন্টস মালিকদের তাদের শ্রমিকদের সহায়তা করতে দেখা যায়নি। বরং লকডাউনে যখন সবকিছু বন্ধ তখন গার্মেন্টস শিল্প ঠিকই চালু আছে। মে দিবসের ১৩৫ বছরে আমরা মে দিবসের এই রূপ দেখতে পাই। সম্প্রতি বাঁশখালীতে শ্রমিক হত্যাকান্ডের ঘটনা থেকে আমরা তার দৃষ্টান্ত লক্ষ্য করতে পারি।

বক্তারা আরও বলেন, আজকে আমরা এক দেশে দুই নীতি দেখতে পায়। শ্রমিকদের মজুরি ও বোনাস দেওয়ার ক্ষেত্রে দেশে করোনা আছে। আর লকডাউনে এ শিল্প কারখানা খোলা রাখার ক্ষেত্রে দেশে করোনা নাই। শিল্প কারখানার মালিকরা তাদের এই শিল্পকে নিয়ে গর্ব করছে অথচ শ্রমিকদের বেঁচে খাওয়ার মত নুন্যতম মজুরি দিতে তারা সক্ষম নন। আমদের সরকার এ দেশকে মধ্যম আয়ের দেশ বলে দাবি করছে। কিন্তু আমরা জানি একটি মধ্যম আয়ের দেশে সকল শ্রমিকদের জাতীয় নুন্যতম মজুুরি অনুযায়ি বেতন বোনাস পেয়ে থাকে। অথচ আমাদের দেশে এই সামান্য বেঁচে খাওয়ার মত মজুরি নিয়েও তারা টালবাহান করতে দেখা যায়। যদি এবারে আর কোন টালবাহানা করেন তাহলে নারায়ণগঞ্জসহ সারা বাংলা উত্তপ্ত হবে। এ সময় সকল শ্রমিককে করোনার টেস্টের আওতায় আনা, আক্রান্ত হলে চিকিৎসা নিশ্চিতসহ পূর্ণাঙ্গ বেতন ও বোনাস নিশ্চিতের দাবি জানান নেতৃবৃন্দ।

সব খবর
সংগঠন সংবাদ বিভাগের সর্বশেষ