শনিবার ২৮ নভেম্বর, ২০২০

যেভাবে এলো ‘রাখের উপবাস’

রবিবার, ১৫ নভেম্বর ২০২০, ২০:৩৮

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

জয় সাহা: প্রতি বছর সোনারগাঁয়ের বারদীতে লোকনাথ বাবার আশ্রমে কার্তিক মাসের ১৫ তারিখের পর ওই মাসের প্রতি শনি ও মঙ্গলবার বাবার আশ্রমে শত শত পুণ্যার্থী নারী ও পুরুষের আগমন ঘটে। সারা দিন ব্যাপী বাবা লোকনাথের নামে উপবাস পালন করে সন্ধ্যায় আশ্রম প্রাঙ্গণে ঘিয়ের বাতি ও ধূপ-ধূনা জ্বালিয়ে বাবার ধ্যান-ধারণা করে সকলে অনাবিল চিত্তপ্রসাদ পেয়ে থাকেন।

‘একদা শীতলা দেবী বারদী ভূমির উপর দিয়া চলিয়া যাইতে উদ্যত হইলে, বাবা লোকনাথ ইহা বুঝিতে পারেন। শীতলা দেবীর বারদী ভূমি অতিক্রমের পরিণামে এখানে ব্যাপক আকারে বসন্ত রোগের প্রাদুর্ভাব ও তাহাতে অকালে প্রাণহানির ঘটনা ঘটবে। বাবা লোকনাথ ইহাতে বিচলিত হইয়া শীতলা দেবীকে নির্দেশ করেন, বারদীর পথ পরিহার করিয়া তিনি যেন অন্য পথে চলিয়া যান, ইহাতে উভয়ের মধ্যে কিছু বাদ-প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়। শীতলা দেবী বাবা লোকনাথকে মান্য করিয়া বারদীর পথ পরিহার করেন’।

এ ঘটনার পর কলেরা, বসন্ত ইত্যাদির উৎপাদ ঠেকানোর নিমিত্তে বাবা লোকনাথ ভক্তগণকে নির্দেশ দেন তাহারা যেন কার্তিক মাসে উপবাস পালন ও আশ্রম প্রাঙ্গণে ঘৃত-প্রদীপ ও ধূপ-ধূনা প্রজ্জ্বলন করেন। এভাবে রাখের উপবাসের প্রথা প্রচলিত হয়। উক্ত উপবাস প্রথাটি কার্তিক মাসে অনুষ্ঠেয় বিধায় কেহ কেহ এ প্রথাকে ‘কার্তিক ব্রত’ আবার কেহ আবার ‘কার্তিক যজ্ঞ’ নামে অভিহিত করে থাকেন। বিপদ থেকে রক্ষার জন্য যে কয়জন আপনজনের উদ্দেশ্যে প্রার্থনা করা হয়, গুনে গুনে সেই ক’টি প্রদীপই রাখা হয়। চারপাশে সাজানো থাকে নানা রঙের কাটা ফল। সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে বেজে ওঠে ঘণ্টা। উলুধ্বনির মধ্য দিয়ে সবাই একযোগে জ্বালাতে শুরু করে প্রদীপ। একসঙ্গে জ্বলে ওঠে শত শত প্রদীপ। ওপর থেকে দেখা সেই দৃশ্য অনির্বচনীয়। এলাকাজুড়ে শুরু হয় এক আলোর নাচন। প্রদীপ জ্বালানো শেষে ভাঙা হয় সারাদিনের উপবাস। আপনজনের কল্যাণ কামনা করে এই উপবাস করে লোকনাথভক্তরা। কলেরা-বসন্তের হাত থেকে বাঁচার জন্য কার্তিক মাসে উপবাস পালন এবং আশ্রম প্রাঙ্গণে ঘিয়ের প্রদীপ ও ধূপ-ধূনা জ্বালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন বাবা লোকনাথ। সেই থেকে সোনারগাঁয়ের বারদী লোকনাথ আশ্রমে প্রতি বছর কার্তিক মাসে হয় এই উৎসব। ১৫ থেকে ৩০ কার্তিক মাসে এই ১৫ দিনের প্রতিটি শনি ও মঙ্গলবার এই ব্রত অনুষ্ঠান হয়ে থাকে। এখন সব লোকনাথ বাবার মন্দিরেই এই অনুষ্ঠানটি হয়।

লেখক: নারায়ণগঞ্জের শিক্ষার্থী (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)

সব খবর
ধর্ম ও নৈতিকতা বিভাগের সর্বশেষ