বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর, ২০২০

৯ দাবিতে ধর্ষণবিরোধী লং মার্চ, নারায়ণগঞ্জে সমাবেশ

শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২০, ২১:০১

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটির মাধ্যমে ধর্ষণের তদন্ত ও নারীকে পণ্য হিসেবে উত্থাপন বন্ধসহ ৯ দফা দাবিতে ‘ধর্ষণ ও বিচারহীনতার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ’ ব্যানারে লং মার্চের সমাবেশটি ঢাকা থেকে নারায়ণগঞ্জ হয়ে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের উদ্দেশ্যে গিয়েছে।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকেই নারায়ণগঞ্জ শহীদ মিনারে লং মার্চের সমাবেশের উদ্দেশ্যে জমায়েত হতে শুরু করে ছাত্র ফেডারেশন, ছাত্র ফ্রন্ট, ছাত্র ইউনিয়নসহ বিভিন্ন প্রগতিশীল রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠনগুলো।

পরে বেলা সাড়ে ১২টায় লং মার্চের উদ্দেশ্যে ঢাকা থেকে একটি দল নারায়ণগঞ্জে আসে। এসময় ‘ধর্ষণ ও বিচারহীনতার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ’ ব্যানারে নারায়ণগঞ্জ শহীদ মিনারে কেন্দ্রীয় ছাত্র ফেডারেশন, ছাত্র ফ্রন্ট, ছাত্র ইউনিয়নসহ বিভিন্ন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ ধর্ষণের প্রতিবাদে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন।

এ সময় ছাত্র ইউনিয়ন নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি শুভ বণিকের সভাপতিত্বে এসময় উপস্থিত ছিলেন ছাত্র ফেডারেশন কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি গোলাম মোস্তফা, ছাত্র ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক নাসিরুদ্দিন প্রিন্স, যুব ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক খান আসাদুজ্জামান মাসুম, উদীচি কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক জামসেদ আনোয়ার তপন প্রমুখ।

এ সময় ছাত্র ফেডারেশন কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি গোলাম মোস্তফা বলেন, শুধু বিচারহীনতা এবং ধর্ষণ নয় বাংলাদেশের মূল সমস্যা হচ্ছে এই দেশে গণতন্ত্র নেই আইনের শ্বাসন নেই। মানুষের ভোটাধিকার নেই নিরাপত্তা নেই। এই সমস্ত কিছু বাস্তাবায়ন করার জন্য। আমরা একটি পয়েন্ট থেকে শুরু করেছি। এখানে নারী পুরুষ সহ সকল মানুষের যে নিরাপত্তার প্রশ্ন। সেটি থেকে আমরা শুরু করেছি। আজকে হয়তো আমরা ধর্ষণের বিচারের দাবি তুলেছি। আজকে আমরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিকে প্রধান করে দেখছি। সেদিন বেশি দূরে নয় যেদিন আওয়ামী সরকার পতনের দাবি এই শহীদ মিনার থেকে শুরু হবে।

ছাত্র ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক অনিক রায় বলেছেন, আজকের লড়াই শুধু ধৈর্যের নয়। বছরের পর বছর ধরে মামলা কোর্টে ঝুলে। কিন্তু সেই মামলার রায় হয় না এরও বিরুদ্ধে। বাংলাদেশের মানুষের ল এন্ড অর্ডার মেনটেইন করার যে দায়িত্ব স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীল ছিল। তিনি তো ব্যর্থ হয়েছেন-ই তার উপর তিনি ধর্ষণের মত ঘটনাকে সাধারণ করতে চেয়েছেন। তিনি বলেছেন সারা পৃথিবীতে ধর্ষণ হয়। এই বক্তব্য দিয়ে তিনি প্রমাণ করতে চেয়েছেন যে ধর্ষণ একটি সাধারণ ঘটনা। দায়িত্বশীল জায়গায় বসে এরকম দায়িত্বহীনের মত, নির্বোধের মত বক্তব্য যে সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেয়। তাঁকে আমাদের ট্যাক্সের টাকায় বেতন পরিশোধ করতে চাই না। বাংলাদেশের জনগন এই ব্যর্থ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বয়কট করেছে। আমরা দাবি করব এই ব্যর্থ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে। তাঁকে অপসারণ করতে হবে। না হয় এই লংমার্চ দিয়েও আন্দোলন শেষ হবে না।

বক্তব্য শেষে দুপুর দেড়টায় ঢাকা থেকে আগত দলটির সাথে লংমার্চে যাওয়ার উদ্দেশ্যে প্রস্তুত থাকা নারায়ণগঞ্জের দলটি মিলিত হয়ে কুমিল্লার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।

উল্লেখ্য, লংমার্চে তাদের উত্থাপিত নয় দফা দাবিসমূহ হলো, সকল নারী-শিশু ধর্ষণের সুষ্ঠ বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। ধর্ষকের আশ্রয়দাতাদের বিচার করতে হবে। বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতা দূর করে রায় দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। পুলিশ নয় বিচার বিভাগীয় নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটির মাধ্যমে ধর্ষণের তদন্ত করতে হবে। ধর্ষিতার সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত ও রাষ্ট্রের উদ্যোগে পুনর্বাসন করতে হবে। মামলার শুনানিকালে জেরার নামে ধর্ষিতাকে পুনরায় নির্যাতন বন্ধ করতে হবে। ধর্ষণের প্রমাণের জন্য ডিএনএ টেস্ট এর ব্যবহার করতে হবে। বিজ্ঞাপনে, নাটকে, সিনেমায় নারী দেহের প্রদর্শন বন্ধ করতে হবে। ধর্মীয় দৃষ্টিতে নারীর প্রতি কটুক্তি ও অশীøল মন্তব্য নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে আইন করতে হবে।

সব খবর
নগর বিভাগের সর্বশেষ