রবিবার ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১

ফের বেপরোয়া হাজী রিপন

মঙ্গলবার, ২৯ জুন ২০২১, ২১:৩০

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জ শহরে ফের বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন পরিবহন শ্রমিক নেতা হাজী রিপন। গত সোমবার তার বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক শরীফ উদ্দিন সবুজকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এর আগে চলতি বছরের মার্চে ফটো সাংবাদিক মাহমুদুর রহমান প্রীতমকে মারধর করে রক্তাক্ত জখম করার অভিযোগে রিপনের মামলা হয়। এছাড়া বিভিন্ন সময় মাদক, ছিনতাই, চাঁদাবাজিসহ সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তার ছেলে সালেহ রহমান সীমান্ত মেধাবী ছাত্র তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যা মামলায় র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার হওয়া আসামি। রিপন নিজেও মাদকসহ গ্রেফতার হয়েছেন।

নারায়ণগঞ্জ শহরে হাজী রিপন বলে পরিচিতি থাকলেও তার পুরো নাম হাজী মো. বজলুর রশীদ রিপন। জাতীয় পার্টির অঙ্গ সংগঠন জেলা জাতীয় শ্রমিক পার্টির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তিনি। পরে তাকে ওই কমিটি থেকে বহিষ্কারও করা হয়। বর্তমানে তিনি জেলা ট্রাক ট্যাংক লরী ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন। হাজী রিপন মূলত ট্রাক থেকে চাঁদাবাজি এবং মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া শহরের দক্ষিণ অংশে যত গার্মেন্ট রয়েছে সেগুলোর ঝুটও তার সহযোগীদের দখলে। তার নেতৃত্বে ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালায় সহযোগীরা। এক সময় নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ নাসিম ওসমানের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে তিনি শহরে পরিচিত ছিলেন রিপন। বর্তমানে সাংসদ পুত্র আজমেরী ওসমানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে কাজ করেন। হাজী রিপন সন্ত্রাসী ক্যাঙ্গারু পারভেজের মামা শ্বশুর। ২০১৩ সালে মেধাবী কিশোর তানভীর মুহাম্মদ ত্বকীকে অপহরণের পর নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। ওই হত্যা মামলায় রিপনের ছেলে সালেহ রহমান সীমান্ত র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার হন। এর আগে ২০১২ সালে সীমান্ত শহরের অভিজাত নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের টয়লেটে তরুণীকে নিয়ে আপত্তিকর অবস্থায় অবরুদ্ধ হয়। ছেলের এই কর্মকান্ডের কারণে রিপন ক্লাবের সদস্য পদ হারায়। পরে রিপন নিজেও এক তরুণীর সাথে অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে গণপিটুনির শিকার হন। এ নিয়ে স্থানীয় গণমাধ্যমে লেখালেখিও হয়। তৎকালীন নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার মেয়র (বর্তমান সিটি কর্পোরেশন) ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী সন্ত্রাসী হাজী রিপনের কর্মকান্ডে বাধা দিলে সন্ত্রাসীরা তাকে ট্রাক চাপায় হত্যার চেষ্টা করে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

২০১৮ সালের ২৫ জানুয়ারি ২২০ পিস ইয়াবাসহ জামতলার বাসা থেকে হাজী রিপন ও তার দুই সহযোগীকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ। এরপর জামিনে বেরিয়ে আসলে অনেকটা আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে যায় সে। তবে আবারও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন আলোচিত এই সন্ত্রাসী। গত সোমবার নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাব ভবনের ভেতর প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ বার্তা সংস্থার (বাসস) নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি শরীফ উদ্দিন সবুজকে হুমকি দেন হাজী রিপন ও তার সাথে থাকা এক সহযোগী। এই ঘটনায় সাংবাদিক সবুজ নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবে জিডি করেন।

হাজী রিপনের বিরুদ্ধে হুমকির অভিযোগে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন সাংবাদিক শরীফ উদ্দিন সবুজ। জিডিতে তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘সোমবার বেলা সোয়া একটার দিকে আমি নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাব ভবনের পঞ্চম তলায় আমার অফিস থেকে লিফটে নামছিলাম। ক্লাবের ষষ্ঠ তলা থেকে লিফটে এসে পঞ্চম তলায় থামে সন্ত্রাসী হিসেবে শহরে পরিচিত নগরীর জামতলা নিবাসী হাজী রিপন। আমি লিফটে উঠে ক্লাবের তৃতীয় তলায় থামি। এখান থেকে আমার দুইজন বন্ধু লিফটে উঠে। তারা লিফটে উঠতে সাত থেকে দশ সেকেন্ড দেরি করে। এ নিয়ে হাজী রিপন ও তার সাথে থাকা নীল শার্ট পড়া এক ব্যাক্তি খুবই উত্তেজিত হয়ে ওঠে। হাজী রিপন আমাকে আমি মিনিষ্টার হয়ে গেছি কিনা, দেখিয়ে দিবো, এ ধরনের কথা বলতে বলতে নিচে নামে।’ এই ঘটনায় সাংবাদিক মহল থেকে নিন্দার ঝড় ওঠে। হাজী রিপনকে গ্রেফতারেরও দাবি জানান তারা।

এর আগে চলতি বছরেরই ২৩ মার্চ ফতুল্লা থানাধীন জেলা কারাগারের বিপরীত পাশে একটি জমির উপর নির্মিত দোকানপাটে ভাঙচুর চালায় হাজী রিপন ও তার সহযোগী সন্ত্রাসীরা। ওই সময় ঘটনাস্থলে ভাঙচুরের ছবি তুলতে গেলে দৈনিক সংবাদচর্চার ফটো সাংবাদিক মাহমুদুর রহমান প্রীতমকে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে হাজী রিপন ও তার সহযোগীরা। ওই ঘটনায় ফতুল্লা মডেল থানায় মামলাও করেন প্রীতম। সাম্প্রতিক কিছু কর্মকান্ডে হাজী রিপন আবার বেপরোয়াভাব দেখা গেছে। এ নিয়ে শঙ্কিত নগরবাসী। তারা বলছেন, স্থানীয় প্রশাসন এইসব ঘটনায় তড়িৎ ব্যবস্থা না দিলে অবস্থা আরও খারাপ হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সব খবর
রাজনীতি বিভাগের সর্বশেষ