১৬ জুন ২০২৪

প্রেস নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ২০:১৩, ১১ জুন ২০২৪

ফুল বিছানো পথে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিলেন মাকসুদ

ফুল বিছানো পথে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিলেন মাকসুদ

নারায়ণগঞ্জে প্রভাবশালী পরিবার বলে পরিচিত ওসমান পরিবারের দুই সংসদ সদস্যের সরাসরি বিরোধীতা থাকা সত্ত্বেও বন্দর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিজয়ী হন মাকসুদ হোসেন। তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান হতে মুছাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদটিও ছেড়ে আসেন। তবে তার ইউপি চেয়ারম্যানের পদ ছেড়ে আসা বিফলে যায়নি। প্রথমবারের মতো চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে মঙ্গলবার (১১ জুন) দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন তিনি।

নির্বাচিত হওয়ার পথটি সহজ না থাকলেও নতুন উপজেলা চেয়ারম্যানের দায়িত্বগ্রহণ অনুষ্ঠানটি উপজেলা পরিষদে জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়। গোলাপ আর গেন্দা ফুল বিছানো পথে হেঁটে তিনি চেয়ারে বসেন। তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাইমিন আল জিহানসহ প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা। এর আগে সোমবার (১০ জুন) শপথ গ্রহণ করেন মাকসুদ হোসেন।

এর আগে গত ৯ জুন উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে এক অনুষ্ঠানে সেলিম ওসমান বলেন, ‘আমি খবর পেয়েছি, ১০ তারিখে উনি (উপজেলা চেয়ারম্যান মাকসুদ হোসেন) শপথ নিবেন, তার উৎসব করার জন্য সরকারি লোকজনও ব্যস্ত হয়ে গেছেন। বিভিন্ন জায়গা থেকে টাকা তোলারও ব্যবস্থা হচ্ছে, যাতে এইখানে একটা জমজমাট আয়োজন করে একটা রাজাকারকে নিয়ে আসা যায়।’

একই দিন দায়িত্ব নিয়েছেন নতুন ভাইস চেয়ারম্যান মো. আলমগীর হোসেন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ছালিমা হোসেন শান্তা।

গত ৮ মে বন্দর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। চেয়ারম্যান পদে ওসমান পরিবারের দুই সংসদ সদস্য, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের শামীম ওসমান ও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সেলিম ওসমানের পছন্দের প্রার্থী ছিলেন এমএ রশিদ। এই প্রার্থীকে প্রকাশ্যে সমর্থন দেন এই দুই সংসদ সদস্য। এমনকি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মাকসুদ হোসেন ও আতাউর রহমান মুকুলের বিরুদ্ধে বিষোদগার করতেও ছাড়েননি তারা। মাকসুদ হোসেনকে ‘রাজাকারের বংশধর’ বলে ভর্ৎসনাও করেন সেলিম ওসমান।

তবে কোনকিছুতেই কাজ হয়নি। দুই ওসমান ভাইকে টেক্কা দিয়ে বিপুল ভোটের ব্যবধানে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন মাকসুদ। চেয়ারম্যান পদে ২৯ হাজার ৮৭৩ ভোট পান মাকসুদ। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রশিদ পান ১৪ হাজার ৮৩৮ ভোট। তার প্রাপ্ত ভোটের বিপরীতে দ্বিগুণেরও বেশি ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন মাকসুদ।

তবে, মাকসুদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেও তাকে নিয়ে সমালোচনা করতে থামছেন না সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান। গত ৯ জুন উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে এক অনুষ্ঠানে সেলিম ওসমান অভিযোগ করেন, নির্বাচনে সাধারণ ভোটার ও প্রশাসনের লোকজন আর্থিক সুবিধা নিয়ে চেয়ারম্যান প্রার্থী মাকসুদ হোসেনকে বিজয়ী করেছেন।

বন্দর উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তর উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সেলিম ওসমান বলেন, ‘বন্দরের মানুষ রাজাকারের কাছে বিকিয়ে গেছেন। বন্দরের মানুষ অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমার উপর যতই রাগ করেন না কেন, পয়সার বিনিময়ে আপনারা বিকিয়ে গেছেন। রাজাকারের কাছে বিকিয়ে গেছেন। আপনারা (ভোটার) টাকা খেয়েছেন, প্রশাসনের লোকজন টাকা খেয়েছেন। এখন রাজাকার, রাজাকারের বংশধর যদি বন্দরে বাহাদুরি করে, তাহলে বন্দরে আগে যেমন উন্নয়ন হয়েছে তা আর দেখতে পারবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘এত সোজা হবে না, পিপীলিকার পাখা গজায় মরিবার তরে। কাকে আমরা এখানে বসিয়েছি? এক সময় সংসদেও কিন্তু রাজাকাররা বসেছিল। একুশটা বছর আমাদের জ্বালিয়ে গেছে। আজকের প্রধানমন্ত্রী একটা একটা করে ফাঁসিতে ঝুলিয়েছেন, আইনের মাধ্যমে। নির্বাচনের কারণে কিছু বলতে পারিনি, কিন্তু নির্বাচনের পরেও আমি কিছু বলতে পারবো না, এমন কোনো আইন নাই।

যদিও, এক সময় ওসমান পরিবারের অনুসারী ছিলেন মাকসুদ হোসেন। গত মুছাপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও সেলিম ওসমানের সমর্থন পেয়েছিলেন তিনি। বন্দর উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের চারটি ইউনিয়নে যখন নিজের পছন্দের প্রার্থীরা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন তাদের ‘মাই ম্যান’ বলেও ঘোষণা করেছিলেন সংসদ সদস্য। এমনকি গত দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনেও সেলিম ওসমানের পক্ষে প্রচারণায় ছিলেন মাকসুদ। কিন্তু উপজেলা পরিষদে রশিদের বিরুদ্ধে প্রার্থী হওয়াতেই চটে যান সেলিম ওসমান।

তবে, মাকসুদ হোসেনের বিজয়ে সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান মনক্ষুন্ন হলেও বাস্তবতা হচ্ছে সবকিছু স্বাভাবিক নিয়মে চললে আগামী ৫ বছর উপজেলা পরিষদের চেয়ারে থাকবেন মাকসুদই। এক্ষেত্রে, সেলিম ওসমানের কতটুকু সহযোগিতা পাবেন তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কেননা, সেলিম ওসমান গত ৯ জুনের অনুষ্ঠানে এ ব্যাপারে ইঙ্গিত দিয়ে বলেছেন, ‘আমাদের ভুলের কারণে সে যদি পাস করে থাকে, আল্লাহ তাকে যতদিন ক্ষমতায় রাখার ততদিন রাখবে। বন্দরের উন্নয়ন বন্দরের মতো চলবে। কিন্তু হয়তো এই উপজেলা অফিসে আমার আসা হবে না। আমরা একজন মুক্তিযোদ্ধাকে হারিয়েছি। আমরা একটা বিএনপির দালালকে ভোট দিয়েছি, আমরা একটা রাজাকারকে এই বন্দরে স্থান দিয়েছি।’

সর্বশেষ

জনপ্রিয়