১৬ জুলাই ২০২৪

প্রকাশিত: ২০:৩৬, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

আবারও ফুটপাত দখলে নিতে চায় হকাররা

আবারও ফুটপাত দখলে নিতে চায় হকাররা

সিটি মেয়র ও স্থানীয় দুই সংসদ সদস্যের ঐক্যের পর প্রশাসনের কার্যকরী পদক্ষেপে শহরের যানজট হ্রাস পাওয়ায় এবং হকারমুক্ত ফুটপাত পেয়ে গত কয়েকদিন যাবৎ স্বস্তিতে রয়েছে নগরবাসী। তবে এই স্বস্তি দীর্ঘায়িত হবে কিনা তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। হকাররা পুনরায় ফুটপাত দখল করে ব্যবসার ব্যবস্থা করে দিতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।

ফুটপাতে আবারও বসার দাবিতে শনিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে একটা পর্যন্ত চাষাঢ়ায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে কয়েকশ’ হকার। তাদের নেতৃত্ব দেন বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা।

হকারদের দাবি, পুনর্বাসন ছাড়া তাদের উচ্ছেদ করা যাবে না। পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে ফুটপাতে ব্যবসা বন্ধ করে দিলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন।

যদিও সিটি করপোরেশন সূত্র বলছে, ২০০৭ সালে হকারদের পুনর্বাসনের জন্য চাষাঢ়ায় হকার্স মার্কেট নির্মাণ করে সেখানে প্রায় ৮০০ হকারের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। পরবর্তীতে হকাররা চড়া দামে এসব দোকান বিক্রি করে দিয়ে আবারও ফুটপাতে নেমে আসেন। হকার্স মার্কেটে দোকান নিয়ে এখন কোন হকারকে ব্যবসা করতে দেখা যায় না। অধিকাংশ দোকান ব্যবহৃত হচ্ছে গোডাউন হিসেবে।

এদিকে, পুনরায় ফুটপাতে বসার দাবিতে শনিবারের অবস্থান কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন নারায়ণগঞ্জ জেলা হকার্স সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক আসাদুল ইসলাম আসাদ। এই হকার নেতা আরেক তরুণ হকার জোবায়ের হোসেন হত্যা, সিটি মেয়রকে হত্যাচেষ্টা ও পুলিশের উপর হামলা ও যানবাহন ভাঙচুরের মামলার আসামি। দুই মামলায় তিনি গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন।

হকারদের অবস্থান কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মন্টু ঘোষ, হাফিজুল ইসলাম, জেলা কমিটির সভাপতি আব্দুল হাই শরীফ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন, সদস্য এম এ শাহীন, আব্দুস সালাম বাবুল, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সেলিম মাহমুদ, গণজাগরণ মঞ্চের জেলার সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম গোলক।

আরও বক্তব্য রাখেন হকার্স লীগের মহানগর কমিটির সভাপতি রহিম মুন্সী, সাধারণ সম্পাদক মো. পলাশ, হকার নেতা সালাম, রানা, শাহীন, সোহেল, তাসির ও নিলুফা বেগম প্রমুখ।

এই সময় হকার ও শ্রমিক নেতারা বলেন, ‘দেশে কর্মসংস্থান সংকট, বেকার সমস্যা ও দ্রব্যমূল্যের চাপে জনজীবন নাকাল। এই পরিস্থিতিতে হকাররা নিজ উদ্যোগে অল্প পুঁজি নিয়ে ফুটপাতে বসে মালামাল বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছে। হুট করে তাঁদের উচ্ছেদ করা দেয়ার সিদ্ধান্ত অমানবিক ও বেআইনি। পুর্নবাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদ করা চলবে না।’

তারা আরও বলেন, ‘দেশের প্রধানমন্ত্রীও বলেছিলেন পুনর্বাসন ছাড়া হকারদের উচ্ছেদ না করার জন্য কিন্তু একতরফা নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকার পুনরায় রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে রূপ পাল্টে ফেলেছে। সরকার দলীয় জনপ্রতিনিধি নারায়ণগঞ্জের সিটি মেয়র, ৪ ও ৫ আসনের সংসদ সদস্য একাট্টা হয়ে শহরকে সুন্দর করার জন্য যানজট নিরসন ও ফুটপাতে পথচারীদের চলাচলে সুবিধার কথা বলে ৫ হাজার হকারের রুটি-রুজি বন্ধ করে দিয়ে তাঁদের পেটে লাথি মেরেছে। এটা কোনভাবেই মেনে নেয়া হবে না।’

হকার্স মার্কেট প্রসঙ্গ টেনে তারা বলেন, ‘তিন হাত বাই তিন হাত জায়গার দোকান দিয়ে দোকানদারি করা যায় না। বহুতল ভবনে হকার মার্কেট বানিয়ে পুনর্বাসন করতে হবে। তাঁর আগ পর্যন্ত আলোচনার মাধ্যমে একটা নিয়ম-নীতির মধ্যে ফুটপাতে হকারদের বসতে দিতে হবে।’

এদিকে, গত ২০১৭ সালের ডিসেম্বরের শেষদিকেও ফুটপাত হকারমুক্ত করার উদ্যোগ নেয় প্রশাসন। ফুটপাতে নির্বিঘেœ নগরবাসীর চলার সুবিধার্থে এতে সমর্থন দেন নারায়ণগঞ্জ সিটি মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীও। কিন্তু হকারদের পক্ষ নেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান। পরে ২০১৮ সালের ১৬ জানুয়ারি এই হকার ইস্যুকে কেন্দ্র করে বাঁধে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ। এতে আহত হন মেয়র আইভী, সাংবাদিক, নাগরিক সংগঠনের নেতাসহ অর্ধশত ব্যক্তি।
 

সর্বশেষ

জনপ্রিয়