১৬ জুলাই ২০২৪

প্রকাশিত: ২০:২৮, ১২ জুন ২০২৪

টিকা কর্মসূচি নিয়ে গণশুনানি: ডাটাবেজ থাকলে সাফল্যের হার বাড়বে

টিকা কর্মসূচি নিয়ে গণশুনানি: ডাটাবেজ থাকলে সাফল্যের হার বাড়বে

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) ও ইউনিসেফ যৌথ উদ্যোগে নগরীতে টিকাদান কার্যক্রমের উন্নতির লক্ষে এসবিসি পরিকল্পনার জন্য গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১২ জুন) সকালে সাড়ে ১০টায় শহরের আলী আহম্মদ চুনকা মিলনায়তনে এ গণশুনানি শুরু হয়, চলে বেলা দেড়টা পর্যন্ত৷ এ সময় টিকাদান কর্মসূচি নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষে নির্মিত নাটক মঞ্চায়িত হয়৷

নাসিক শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা ও স্বাস্থ্যরক্ষা ব্যবস্থা বিষয়ক কমিটির সভাপতি সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর মনোয়ারা বেগমের সভাপতিত্বে এ সময় উপস্থিত ছিলেন নাসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জাকির হোসেন, নাসিক ১, ২, ৩ ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর মাকসুদা মোজাফফর, ১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আনোয়ার ইসলাম, ১৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মনিরুজ্জামান মনির, ১৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর অসিত বরণ বিশ্বাস, ১৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোখলেছুর রহমান চৌধুরী, নাসিকের মেডিকেল অফিসার ডা. নাফিয়া ইসলাম, ইউনিসেফ এসবিসি কনসাল্টটেন্ট আমান উল্লাহ, এম এম কামাল প্রমুখ।

গণশুনানিতে মাঠপর্যায়ের টিকাদানকারী স্বাস্থ্যকর্মীরা টিকা কার্যক্রমেরর বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। স্বাস্থ্যকর্মীরা উল্লেখ করেন, অভিভাবকরা টিকার সময় ভুলে যায়, কর্মজীবী অভিভাবকরা কর্মদিবসের শিশুকে টিকে দিতে নিয়ে আসতে পারে না, অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্রগুলোতে প্রায় সমস্যা হয়, বসার জায়গা পাওয়া যায় না। মানব সম্পদের অভাব, লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা সম্ভব হয় না, ভ্যাকসিনের অপর্যাপ্ত সরবরাহ ইত্যাদি।
এ সময় তারা টিকা কার্যক্রম আরও উন্নত করার লক্ষে অনলাইন ডাটাবেজ তৈরি, এসএমএস এর মাধ্যমে টিকায় সময় মনে করিয়ে দেয়া, ই-ট্র্যাকিং ব্যবস্থা ও স্থায়ী টিকাদান কেন্দ্র নির্মাণের পরামর্শ দেন। এ লক্ষে নাসিক কর্মকর্তাসহ কাউন্সিলরদের সহযোগিতা কামনা করেন তারা৷

ডা. নাফিয়া ইসলাম বলেন, এসবিসি প্রকল্পের অধীনে শূন্য থেকে দুই বছর বয়সী শিশুদের ৬ ডোজ টিকা প্রদান করা হয়। জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত সুপারভাইসার, ভ্যাকসিনেটর মোট ১০৩ জন স্বাস্থ্যকর্মী ৩ হাজার ৪৬২টি সেশনে টিকায় কার্যক্রম পরিচালিত করেছে। প্রাথমিকভাবে সিটি করপোরেশন এলাকায় ২৫ হাজার ৫৪৮ জন শিশুর লক্ষ্য মাত্রা রয়েছে। তবে নারায়ণগঞ্জে ভাসমান মানুষের সংখ্যা বেশি হওয়ায় স্থায়ী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা কঠিন। যার ফলে লক্ষ্যমাত্রার বেশি ভ্যাকসিন দেয়া হয়। একই কারণে বিভিন্ন ডোজের বিশেষ করে শেষের ডোজগুলো শতভাগ দেয়া সম্ভব হয় না। কেননা ভাসমান মানুষগুলোকে ট্রেক করা সম্ভব হয় না।

তিনি আরও বলেন, নারায়ণগঞ্জ একটি মাইগ্রেটিং এলাকা ও শিল্পাঞ্চল। যেখানে কর্মজীবী মানুষের সংখ্যাই বেশি। এ কারণে নাসিক ২২-২৩ নম্বর ওয়ার্ডের শুক্রবার, সন্ধ্যাকালীন সেশন রাখা হয়েছে। যাতে কর্মজীবী অভিভাবকরা শিশুদের টিকা দিতে পারে। একই সাথে ই-ট্র্যাকার ব্যবস্থা চালু আছে। এতে শিশুদের সবগুলো টিকা গ্রহণ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
ইউনিসেফের কবির বলেন, বাংলাদেশকে টিকা বান্ধব দেশ বলা হয়ে থাকে। এসব টিকার কারণে প্রতিবছর ৫০ হাজার শিশুর জীবন রক্ষা পায়। এ কারণে প্রধানমন্ত্রী পুরষ্কারও পেয়েছেন। তবু শতভাগ সফলতা পাওয়া যায় না। আমাদের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে শেষের দুই ডোজ টিকা ৫ শতাংশ শিশু গ্রহণ করে না। একজন মা বলতে পারবে তিনি কেন তার শিশুকে নিয়ে আসতে পারেন না। চ্যালেঞ্জগুলো কি, সমাধান কি হতে পারে। প্রকল্পটি যখন সিটি করপোরেশন, পৌরসভা এলাকায় হয় তার দায়িত্ব সিটি করপোরেশন, পৌরসভার।

আমান উল্লাহ বলেন, জেলার তথ্য অফিসার, ইসলামিক ফাউন্ডেশন এসবিসি টিকা কর্যক্রম নিয়ে কাজ করে। তবু শতভাগ অর্জন করা সম্ভব হয় না। আজকের গণশুনানিতে অনেকগুলো সমস্যার উঠে এসেছে। সম্ভাব্য সমাধানও পাওয়া গেছে। এমন আয়োজন আরও হওয়া প্রয়োজন।

স্বাস্থ্যকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সমস্যার সমাধান কে করবে, কীভাবে করবে এসব নিয়ে ভাববেন না। কাজ করতে গিয়ে যখনই সমস্যার সম্মুখীন হবেন আমাদের জানাবেন। আমরা বিষয়গুলো গুরুত্বের সাথে দেখবো। কাউন্সিলরা আপনাদের সহযোগিতা করবে।
নাসিক সিইও জাকির হোসেন বলেন, আজকের শিশু আগামীর ভবিষ্যৎ। দেশের হাল তারাই ধরবে। এই কর্মসূচিতে যারা টিকা নিচ্ছেন না সেটা চিহ্নিত করতে হবে আমাদের ডাটাবেজ প্রয়োজন। পরবর্তীতে সেই তথ্য অনুযায়ী পরিকল্পনা করে কাজ করতে হবে। সবাই স্বপ্রণোদিতভাবে টিকা নিতে আসবে এমন না। যারা আসছে না তাদের নিয়ে আসা আমাদের দায়িত্ব। সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে যা যা প্রয়োজন সবই করবো।

তিনি আরও বলেন, মাঝেমধ্যে এমন আয়োজন হলে খুব সহজেই অনেক সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হবে। কারও যদি ব্যক্তিগতভাবে সমস্যা থাকে, আমাদের জানাতে চান আমাদের দরজা খোলা আছে। আসবেন, কথা হবে।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়