১৬ জুন ২০২৪

প্রেস নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ২২:৪৯, ৩১ জুলাই ২০২৩

হাসপাতালের সামনে উচ্চ শব্দে মাইক, রোগীদের ভোগান্তি

হাসপাতালের সামনে উচ্চ শব্দে মাইক, রোগীদের ভোগান্তি

নারায়ণগঞ্জ শহরের খানপুর এলাকায় অবস্থিত বিশেষায়িত নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতাল। সোমবার (৩১ জুলাই) হাসপাতালটির সামনের সড়কে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উচ্চ শব্দে মাইক ও সাউন্ড বক্স বাজিয়ে চলে জেলা ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলন। এতে ভোগান্তিতে পড়েন হাসপাতালে ভর্তি এবং চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা।

খানপুর এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা ও হাসপাতালের স্টাফরা বলেন, সম্মেলন উপলক্ষে সকাল ১১টা থেকে উচ্চ শব্দে মাইক ও সাউন্ড বক্স বাজানো শুরু হয়। উচ্চ শব্দে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভর্তি রোগীরা চরম ভোগান্তির সম্মুখীন হন।

দুপুর তিনটার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, খানপুরে হাসপাতাল রোডে সম্মেলন স্থল থেকে চাষাঢ়া পর্যন্ত প্রায় অর্ধমাইল সড়কজুড়ে লাগানো হয়েছে মাইক। সম্মেলনস্থলে মিছিল নিয়ে জেলার বিভিন্ন থানা ও উপজেলা থেকে যোগ দিচ্ছিলেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা-কর্মীরা। উচ্চ শব্দে বাজছে মাইক, সাউন্ড বক্স ও ব্যান্ড পার্টির বাদ্যযন্ত্র। কিছুক্ষণ পরপর মাইকে ভেসে আসছে স্লোগান। এদিকে হাসপাতালটির ভেতরে ওই সময় দেড় শতাধিক রোগী ভর্তি আছেন। তাদের মধ্যে শিশু ও বৃদ্ধরাও রয়েছেন, যারা পুরো সময়টা জুড়ে ভোগান্তি সহ্য করেছেন।

হাসপাতালটির সার্জারি বিভাগের পুরুষ ওয়ার্ডে ভর্তি ৬০ বছর বয়সী বৃদ্ধ রমজান আলী বলেন, ‘সকাল থেইকা মাইক চলতেছে। মাইকের আওয়াজ আর চিল্লাচিল্লতে মাথা ধইরা যাইতেছে, কানে সমস্যা হয়। আমরা কইলে তো আর হেরা এইসব বন্ধ করবো না। কী আর করমু, সহ্য করতে হইতেছে। একদিনই তো!’

একই ওয়ার্ডে ভর্তি পোশাক শ্রমিক আরিফ হোসেন বলেন, ‘সকাল থেকে একটানা মাইক বাজতেছে, কোন থামাথামি নাই। মাথা ব্যথা করতেছে প্রচুর। হাসাপাতালের পরিবেশ থাকবো ঠান্ডা, এইখানে কত ইমারজেন্সির রোগী থাকে তাদের তো আরও সমস্যা হইতেছে।’

নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে হাসপাতালের এক নার্স বলেন, ‘হাসপাতালে বিভিন্ন ধরনের রোগী থাকে। কারও হার্টে সমস্যা থাকে, কেউ কেউ থাকেন খুবই ক্রিটিক্যাল কন্ডিশনে। হাসপাতালের সামনে এইসব প্রোগ্রাম করা উচিত না।’

ওই সময় বিভিন্ন ওয়ার্ডে ১৫৪ জন রোগী ভর্তি আছেন জানিয়ে হাসপাতালটির তত্ত্বাবধায়ক (সুপার) ডা. আবুল বাশার বলেন, ‘প্রচন্ড সাউন্ডে রোগীদের হিয়ারিং এ বেশি সমস্যা হয়। মাথা ধরে যায়, রেস্ট নেওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা হয়। শুধু রোগীদেরই না, হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা দেওয়া চিকিৎসক ও অন্যান্য কর্মীদেরও মনযোগ ব্যাহত হচ্ছে। আজকে সকালবেলা মন্ত্রণালয় থেকে লোকজন আসছিল। তারাও মন্তব্য করছেন, হাসপাতালের পাশে এইভাবে সাউন্ড সিস্টেম লাগিয়ে প্রোগ্রাম করা উচিত না। যারা আয়োজন করে তাদের এইসব ব্যাপারে খেয়াল রাখা দরকার।’

নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের এ সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম। আরও উপস্থিত ছিলেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি গাজী মেজবাউল হোসেন সাচ্চু, সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান বাবু, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবুসহ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

হাসপাতালের সামনে সম্মেলন আয়োজন প্রসঙ্গে কথা বলতে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক জুয়েল হোসেনের মুঠোফোনের নম্বরে একাধিকবার কল করলেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়